
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 April 2025 15:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬/১১ মুম্বই হামলার প্রায় ১৫ বছর পর এনআইএ সেই রহস্যময় 'দুবাই ম্যান' সম্পর্কে জট ছাড়ানোর কাছাকাছি পৌঁছতে চলেছে। হামলার আগে যার সঙ্গে দুবাইতে দেখা করেছিল কানাডিয়ান-পাকিস্তানি লস্কর-ই-তোইবা জঙ্গি তাহাউর রানা। দুবাইবাসী সেই লোকটিই তাহাউরকে জানিয়েছিল ভারতে এরকম হামলা হওয়া অনিবার্য। তাহাউরের ছোটবেলার বন্ধু ডেভিড কোলম্যান হেডলি দুবাইয়ে এই লোকটির সঙ্গে তাহাউরের দেখা করিয়েছিল জেনেছে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।
এই দুবাই ম্যানও মুম্বই হামলার কথা জানত। তাহাউরকে জেরা করে এখন সেই ব্যক্তিটি কে তা জানার কাছাকাছি পর্যায়ে চলে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। আমেরিকা তাহাউরকে প্রত্যর্পণের সময় যে যে তথ্য দিয়েছে, তাতে জানা গিয়েছে দুবাই ম্যান হামলার কথা আগে থেকেই জানত। দুবাইতে রানার সঙ্গে দেখা-কথাও হয়েছে। এনআইএ সূত্র জানিয়েছে, ২০০৮ সালে হেডলি রানাকে কোনওভাবেই ভারতে যেতে নিষেধ করে দিয়েছিল। সে জানিয়েছিল ভারতে একটা বিশাল মাপের জঙ্গি হামলা হতে চলেছে। এমনকী দুবাইতে দেখা করিয়ে দেওয়া সেই ব্যক্তিও রানাকে জানায়, ভারতে এই হামলা হবেই।
এনআইএ এখন তাহাউরকে জেরা করে জানতে চাইছে যে, ওই ব্যক্তিটি পাক গুপ্তচর সংস্থার কেউ, নাকি পাক সেনা চর সংস্থার কেউ অথবা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কোনও উচ্চপদস্থ কর্তা কিনা। এও হতে পারে যে, লস্করের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দুবাইতে তাদের দেখা হয়েছিল। এনআইএ জেনেছে, ২০০৮ সালের ১৩-২১ নভেম্বরের মধ্যে রানা তার বেগম সামরাজ রানা আখতারকে নিয়ে দেশের বেশ কয়েকটি শহরে ঘুরেছিল। অর্থাৎ শুধু মুম্বই নয়, ভারতের আর কোন কোন শহরে হামলার চক্রান্ত ছিল তা জানতে চায় এনআইএ।
রানা ও সামরাজ উত্তরপ্রদেশের হাপুর ও আগ্রা, দিল্লি, কোচি, আমদাবাদ এবং মুম্বই ঘুরেছিল। মুম্বই হামলায় লস্করের একাধিক শীর্ষ নেতা যেমন হাফিজ সইদ, জাকিউর রহমান লখভি, সাজিদ মজিদ, ইলিয়াস কাশ্মীরি এবং আবদুর রহমান হাসিম সইদ ওরফে পাশা ছিল। এর সঙ্গে ছিল আইএসআইয়ের মেজর ইকবাল ওরফে মেজর আলি ও মেজর সামির আলি। তাহাউর রানা বর্তমানে দিল্লিতে এনআইএ হেফাজতে কড়া নিরাপত্তায় রয়েছে। আত্মহত্যা যাতে না করতে পারে, সে কারণে তাকে নরম মাথাওয়ালা নিবের কলম দেওয়া হয়েছে।
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরার গোড়া থেকে রানা তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না। তার কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত খুব সামান্য কথা জানা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে রানা জানিয়েছে, তার জন্ম পাক পাঞ্জাবের চিছাওয়ান্তি গ্রামে। তার বাবা ছিলেন স্কুলের হেডমাস্টার। তারা তিন ভাই। একজন পাক সেনাবাহিনীতে মনোবিদের চাকরি করছেন এবং অন্যজন সাংবাদিক। হাসানাবডালে সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকাকালীন তার সঙ্গে হেডলির পরিচয় হয়।
১৯৯৭ সালে সেনা ডাক্তার রানা তার ডাক্তার স্ত্রী সামরাজকে নিয়ে কানাডায় চলে যায়। সেখানে সে পেশা ছেড়ে অভিবাসন কনসালটেন্সির ব্যবসা শুরু করে। পরে হালাল মাংসের ব্যবসাও করে। সেনাবাহিনীর চাকরি ছাড়ার পরেও রানা মিলিটারি পোশাক পরতে পছন্দ করত। বিশেষ করে পাক সেনা অফিসার, আইএসআই কর্তা, লস্কর জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তায় সে মিলিটারি পোশাক পরে আসত।