
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শেষ আপডেট: 11 April 2025 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতে ফেরানো হয়েছে। আমেরিকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে আনা হয় তাঁকে এবং ১৮ দিনের জন্য জাতীয় তদন্ত সংস্থার (NIA) হেফাজতে পাঠানো হয়। এই আবহেই ১৪ বছর আগের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি পুরনো পোস্ট এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ ভাইরাল হয়ে গেছে নতুন করে।
২০১১ সালে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মোদী আমেরিকার একটি আদালতের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। কারণ ওই আদালত রানার বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ থেকে তাঁকে মুক্তি দিয়েছিল। যদিও এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু মুম্বই হামলা থেকে কার্যত 'ক্লিনচিট' পেয়েছিলেন তিনি।
মোদীর সেই সময়কার পোস্টে লেখা ছিল, 'মুম্বই হামলায় তাহাউর রানাকে নির্দোষ ঘোষণা করে ভারতের সার্বভৌমত্বকে অপমান করেছে আমেরিকা এবং এটি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা।'
US declaring Tahawwur Rana innocent in Mumbai attack has disgraced the sovereignty of India & it is a “major foreign policy setback”
— Narendra Modi (@narendramodi) June 10, 2011
রানার ভারত প্রত্যর্পণের পর সেই পোস্টF নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। অনেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী মোদীর স্মৃতিশক্তি ও কথা রাখার প্রশংসা করছেন। কেউ লিখেছেন, 'আপনি করে দেখিয়েছেন স্যার! অভিনন্দন ও ধন্যবাদ!' আরেকজন মন্তব্য করেছেন, 'যিনি বলেন, তিনিই করেন—Captain my captain!' অনেকেই 'মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়' শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমেরিকা সফরের সময়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে তাহাওয়ুর রানাকে ভারতকে প্রত্যর্পণ করা হবে। এরপর যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে, বুধবার সন্ধ্যায় রানাকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লিতে আনা হয়। রানা এই প্রত্যর্পণ ঠেকাতে আমেরিকার সব সম্ভাব্য আইনি পথের দ্বারস্থ হয়েছিল, তবে শেষরক্ষা হয়নি।
পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতেন রানা। তার পরে কানাডায় পাড়ি দিয়ে সেখানকার নাগরিক হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। ১৬০ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন ওই হামলায়।
ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, রানা এই হামলার মূল চক্রী এবং পাকিস্তানের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও তাদের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন।
তাঁর জড়িত থাকার কথা প্রকাশ্যে আসে তাঁর বাল্যবন্ধু ও অন্যতম মূল অভিযুক্ত ডেভিড হেডলির জবানবন্দিতে। হেডলি জানান, মুম্বইয়ে একটি অফিস খোলার জন্য রানার অনুমতি নিয়েছিলেন, যা তাঁর মূল সন্ত্রাসী কাজের জন্য ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হেডলি আরও জানান, ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে পাঁচবার ভারত সফর করেন তিনি, এবং প্রত্যেকবারই হামলার জায়গাগুলো ঘুরে দেখেন। এ জন্য পাঁচ বছরের ভিসা রানাই তাঁর জন্য জোগাড় করে দেন।
২০০৮ সালের হামলার ঠিক আগেই তাহাউর রানা স্ত্রীকে নিয়ে মুম্বই এসেছিলেন এবং তাজ মহল হোটেলে থেকেছিলেন। ওই হোটেলই পরবর্তীতে জঙ্গিদের মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়।
২০১৩ সালে রানাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, কিন্তু ২০২০ সালে অসুস্থতার অজুহাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পরে সেই বছরই ভারতের প্রত্যর্পণ অনুরোধের ভিত্তিতে আবার গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।
বর্তমানে এনআইএ হেফাজতে জেরার মুখোমুখি রানা।