.jpeg)
তাহাউর রানার প্রত্যর্পণ।
শেষ আপডেট: 11 April 2025 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ভারতের হাতে তাহাউর হুসেইন রানা। আমেরিকা থেকে বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যর্পণের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) গ্রেফতার করে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার অন্যতম মূল ষড়যন্ত্রকারীকে। পরে এক বিশেষ আদালতে পেশ করে ১৮ দিনের হেফাজতে নেওয়া হয় তাঁকে।
রানার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।যেমন, ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ষড়যন্ত্র, খুন, জালিয়াতি এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (UAPA) মামলা।
রানাকে হাতে পাওয়ার পরে এনআইএর তরফে জানানো হয়েছে, ২০০৮ সালের নারকীয় হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীকে বিচারের মুখোমুখি করার পিছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে চলা 'অবিরাম ও সমন্বিত প্রচেষ্টা', যার মাধ্যমে ২৬/১১ হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারীকে বিচারের মুখোমুখি আনা সম্ভব হয়েছে। এনআইএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'তাহাউর রানা আমেরিকায় বিচারের অধীনে ছিলেন এবং ভারত-আমেরিকা প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। রানাও পাল্টা আইনি চেষ্টা করেন না ফেরার। সে সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তাকে ভারতে আনা সম্ভব হয়েছে।
এনআইএ-র বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ২০২৩ সালের ১৬ মে রানার প্রত্যর্পণের নির্দেশ দেয়। এরপর রানা আমেরিকায় একাধিক মামলা দায়ের করেন, যা একে একে খারিজ হয়ে যায়। তিনি পরে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন করেন। তাও লাভ হয়নি।
পাকিস্তান-মূলের কানাডীয় নাগরিক তাহাউর রানা পাকিস্তানি-আমেরিকান সন্ত্রাসবাদী ডেভিড হেডলির (আসল নাম দাউদ গিলানি) ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, রানা ‘ইমিগ্রান্ট ল সেন্টার’ নামে একটি ফার্মের ব্যানারে হেডলিকে ভারতে ভ্রমণ ও গোয়েন্দাগিরি করতে সহায়তা করেন, যার মধ্যে ছিল দিল্লি, মুম্বই, জয়পুর, পুষ্কর, গোয়া ও পুনে সফর। নিজেও তিনি ২০০৮ সালের নভেম্বরে ভারতে আসেন।
হেডলি তাঁর সাক্ষ্যে বলেছেন, তিনি ২০০৮ সালের হামলার আগে আটবার এবং পরে একবার ভারতে আসেন। মুম্বই শহরের বিভিন্ন স্থানের নজরদারি করতে তিনি বন্দরে নৌভ্রমণও করেছিলেন এবং নিজের পরিচয় গোপন রাখতে বলিউড তারকাদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার মাস দুয়েক আগে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে, মুম্বইয়ে হামলার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর নভেম্বরেই ১০ জন জঙ্গি শহরে ঢুকে ভয়াবহ হামলা চালায়।
তবে তাহাউর রানা ২৬/১১-র ঘটনায় আমেরিকার আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে সংযোগের জন্য তাঁকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ডেনমার্কের একটি পত্রিকায় এক ধর্মগুরুকে নিয়ে কার্টুন ছাপা নিয়ে সেই পত্রিকার বিরুদ্ধে হামলার ষড়যন্ত্রেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
রানার ভারতে প্রত্যর্পণ নিয়ে পাকিস্তান গোড়া থেকেই নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। দেশটির বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র শাফকত আলি খান বলেন, 'তাহাউর রানা গত দুই দশকে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি রিনিউ করাননি। তিনি কানাডার নাগরিক।'
এমনকি পাকিস্তান এ-ও দাবি করে, যেহেতু তারা কানাডার অভিবাসীদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব অনুমোদন করে না, তাই রানার সঙ্গে তাদের কোনও আইনগত সম্পর্কও নেই।
রানাকে প্রথমে দিল্লির তিহাড় জেলে রাখা হতে পারে, পরে মুম্বইয়ে স্থানান্তরিত করা হবে বলে সূত্রের খবর। সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তারিত জেরা ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।
২০০৮ সালের ২৬/১১ হামলায় ১৬৬ জন নিহত এবং ২৩৮ জনের বেশি আহত হন। হামলার লক্ষ্য ছিল তাজ হোটেল, ওবেরয়, ছত্রপতি শিবাজি রেলস্টেশন, লিওপোল্ড ক্যাফে ও ইহুদি উপাসনালয়। ১০ জন জঙ্গির মধ্যে একমাত্র জীবিত ধরা পড়া আজমল কাসবকে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর ফাঁসি দেওয়া হয়। এবার মূলচক্রী তাহাউর রানা এসেছে ভারতের হাতে।