
তাহাউর রানা
শেষ আপডেট: 10 April 2025 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে ভারতে ফিরতে চলেছেন ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রানা। পাকিস্তান বংশোদ্ভূত রানা এখন কানাডার নাগরিক। এতদিন আমেরিকায় ছিলেন। এর আগে অনেকবার ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় কেন্দ্র। চলতি বছরের শুরুতে আমেরিকার একটি আদালত থেকে সবুজ সংকেত মেলে—ভারতে প্রত্যর্পণের আদেশ জারি হয়। যার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রানা। সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি আদালত৷ অবশেষে বছর চৌষট্টির তাহাউর রানাকে আজই ভারতে ফিরিয়ে আনছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
১৯৬১ সালের ১২ জানুয়ারি পাকিস্তানের চিচাওয়াতিতে জন্ম। পড়াশোনা ক্যাডেট কলেজ হাসান আবদালে৷ সেখানে সহপাঠী হিসেবে ডেভিড হেডলির সঙ্গে আলাপ৷ এই হেডলির সঙ্গে মিলেই ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ছক কষেছিলেন রানা৷ প্রসঙ্গত, কলেজের পাট চুকিয়ে তাহাউর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন। তারপর ১৯৯৭ সালে মিলিটারির কাজ ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে কানাডা চলে যান৷ ২০০১-এ সেখানকার নাগরিকত্ব লাভ।
স্ত্রী পেশায় ডাক্তার হলেও নিজে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাহাউর রানা। কানাডা ছেড়ে আমেরিকার চিকাগো চলে আসার পর তা আরও বিস্তৃত হয়। প্রথম বিশ্বে অভিভাসন সংক্রান্ত একটি সংস্থা খোলেন। যার অফিস চিকাগো, নিউইয়র্ক ও টরন্টোর মতো শহরে ছড়িয়ে ছিল। এর পাশাপাশি রানা হালাল কসাইখানাও (Halal Slaughterhouse) চালাতেন।
ব্যবসার ভরকেন্দ্র চিকাগো হলেও কানাডার ওটোয়ায় রানার বসতবাড়ি রয়েছে। যেখানে তাঁর বাবা ও ভাই থাকেন বলে খবর। রানার বাবা লাহোরের একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। তাঁর দুই ভাইয়ের একজন মনোবিদ, আরেক জন সাংবাদিক।
এরপরই পাকচক্রে সন্ত্রাসাবাদী হামলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন রানা। এনআইএ-র চার্জশিট অনুযায়ী, তাহাউর রানা তাঁর সহযোগী হেডলিকে হামলার আগে খোদ মুম্বইয়ে একটি অফিস তৈরিতে সাহায্য করেন। ২৬/১১-র নাশকতা ছাড়াও ডেনমার্কের একটি সংবাদপত্রের দফতরে হামলা চালানোর ছক কষেছিলেন রানা। হজরত মহম্মদের কার্টুন তৈরির শাস্তি দিতেই এই পরিকল্পনা আঁকা হয়, যার নাম ছিল ‘মিকি মাউস প্রজেক্ট’। কিন্তু এই হামলার আগেই রানার সহচক্রী হেডলিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই মুম্বই হামলা।
সূত্রের খবর, দেশে ফেরানোর পর তাহাউর রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উচ্চস্তরের তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। যে দলে একাধিক ইন্সপেক্টর জেনারেল, ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল থেকে শুরু করে একজন পুলিশ সুপার রয়েছেন। এ ছাড়া এনআইএ আধিকারিকরাও তাঁকে প্রশ্ন করবেন বলে জানা গিয়েছে৷ পাশাপাশি স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (এসপিপি) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন আইনজীবী নরেন্দ্র মান৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে গতকাল জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়: আগামী তিন বছর কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ দুইয়ের মধ্যে যেটা আগে শেষ হবে, ততদিন পর্যন্ত এই দায়িত্বে বহান থাকবেন নরেন্দ্র।
ভারতে নামার পর তাহাউরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়িয়ে তিহাড় জেল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে৷ সেখানে মোতায়েন থাকবে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সোয়াত ইউনিট, স্পেশাল সেল এবং সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স (সিএপিএফ)।