
তাহাউর রানা।
শেষ আপডেট: 25 April 2025 07:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানার পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলার আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিশেষ এনআইএ (NIA) বিচারক চন্দার জিত সিং এই সিদ্ধান্ত জানান।
রানার আইনজীবী পীযূষ সচদেব আদালতে সওয়াল করে বলেন, রানা একজন বিদেশি নাগরিক, এবং তাই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁর মৌলিক মানবাধিকার। রানার আইনজীবী জানান, তাঁর পরিবার রানার বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগে ভুগছে।
তবে এনআইএ এই আবেদনকে ঘোরতর বিরোধিতা করে। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, এখনও তদন্ত চলছে। ফলে এই মুহূর্তে রানাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি দিলে গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে। তাদের আশঙ্কা, রানা হয়তো তদন্ত-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করে ফেলবেন।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার আদালত এনআইএর কাছে নোটিস পাঠিয়ে তাদের বক্তব্য চায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালত সিদ্ধান্ত নেয়, এখনই রানার পরিবারকে ফোন করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, তাহাউর হুসেন রানা একজন পাকিস্তান-কানাডিয়ান নাগরিক। তিনি এক সময় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদী নানা কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে আমেরিকা থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করে আনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক এক রিমান্ড শুনানিতে আদালত জানায়, রানার বিরুদ্ধে বহুজাতিক সন্ত্রাসী ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার লক্ষ্য একাধিক শহর এবং ভারতীয় সীমান্তের বাইরেও বিস্তৃত ছিল। এই প্রসঙ্গে আদালত জানায়, এই মামলার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি এবং এটি সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই রানাকে বিভিন্ন সাক্ষী, ফরেনসিক প্রমাণ এবং নথিপত্রের মুখোমুখি করানো প্রয়োজন।
এইসব কারণে আদালত ১৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের অনুমতি দেয়। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেয়, আইন মেনে প্রত্যেক ৪৮ ঘণ্টায় একবার রানার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। যেহেতু আমেরিকা থেকে তাকে প্রত্যর্পণ করার সময় ভারত সরকার তার স্বাস্থ্য নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তাই সেই অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থাও করতে বলেছে আদালত।
রানার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে— ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসবাদ, জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো গুরুতর অভিযোগে। তবে আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, তাকে কেবল সেই অপরাধগুলির জন্যই বিচারের মুখোমুখি করা যাবে, যেগুলি ভারত ও আমেরিকার প্রত্যর্পণ চুক্তিতে অনুমোদিত।
পাশাপাশি, ফৌজদারি আইনের চেয়েও দীর্ঘ পুলিশি হেফাজত এই মামলায় বৈধ হতে পারে। কারণ এটি একটি সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত গুরুতর মামলা।