
স্বাতী মালিওয়াল ও অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
শেষ আপডেট: 23 May 2024 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাতী মালিওয়াল নিগ্রহের তদন্তে এবার অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাবা-মাকে জেরা করতে চলেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালেই দিল্লি পুলিশের একটি দল মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছে যেতে পারে বলে আপ দলীয় সূত্রে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ব্যক্তিগত সহকারীর হাতে দলেরই সাংসদ স্বাতী মালিওয়ালের হেনস্থার অভিযোগ রাজধানীর রাজনীতিতে অতি চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। নির্বাচন চলাকালীন এমন একটি ইস্যু প্রায় ‘না চাইতেই মেঘ’-এর মতো পেয়ে যায় আপের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি ক্রমাগত নির্বাচনী প্রচারের পরিসরে জায়গা করে নেয়।
১ জুন পর্যন্ত জামিনে ছাড়া পাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর বাবা-মাকে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তলব করা হয়েছে। স্বাতী মালিওয়াল নিগ্রহের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য কেজরিওয়ালের সিভিল লাইন বাসভবনে তাঁদের সকালে থাকতে বলা হয়েছে।
গতকাল, বুধবার কেজরিওয়াল নিজেই সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন দিল্লি পুলিশ তাঁর অসুস্থ বাবা-মাকে বৃহস্পতিবার জেরা করতে চায়। সূত্রের খবর, এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী সুনীতা কেজরিওয়ালকেও দিল্লি পুলিশ জেরা করতে পারে।
ঘটনার সূত্রপাত ১৩ মে। অভিযোগ স্বাতী মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়েছিলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বসার ঘরে তিনি যখন অপেক্ষা করছিলেন, তখন কেজরিওয়ালের ব্যক্তিগত সচিব বিভাব কুমার তাঁর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন। মালিওয়াল নিজে পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি বারবার বিভাবকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন, কিন্তু তিনি শোনেননি। এরপরই স্বাতী সেখান থেকে বেরিয়ে অভিযোগ জানান থানায়।
প্রাথমিকভাবে আপের তরফ থেকে স্বাতীর অভিযোগ অস্বীকার করা না হলেও বিষয়টি নিয়ে নীরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল বুধবার, স্বাতীর অভিযোগ প্রসঙ্গে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন ''যে ঘটনা ঘটেছে তার দুটি দিক আছে। আমি চাইছি দ্রুত সত্যিটা সামনে আসুক, যে দোষী সে শাস্তি পাক।'' এই প্রসঙ্গে স্বাতী এক্স হ্যান্ডেলে একটি বার্তা পোস্ট করেন। তিনি লিখেছেন, ‘সমস্ত দলীয় বাহিনীকে আমার দিকে লেলিয়ে দিয়ে, আমাকে বিজেপির এজেন্ট বলে চিহ্নিত করে, আমার চরিত্র হনন করে, এডিট করা ভিডিও ফাঁস করে, আমার সম্মানহানি করে, অভিযুক্তের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করে, অপরাধ সংগঠিত হওয়ার জায়গায় অর্থাৎ নিজের ড্রয়িংরুমে তাঁকে অবাধে প্রবেশ করতে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের সুযোগ করে দিয়ে এখন মুখ্যমন্ত্রী অবশেষে বলছেন উনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও সঠিক বিচার চান। আমি এই কথার একবিন্দুও বিশ্বাস করি না।“