
বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগে স্বামীকে যে ছাড় দেওয়া হয়, তার আইনি বৈধতা স্থির করবে শীর্ষ আদালত।
শেষ আপডেট: 18 September 2024 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৈবাহিক ধর্ষণ নিয়ে আইন প্রণয়নের মতো বিতর্কিত বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার নীরবতা পালন করতে থাকায়, বুধবার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিল সুপ্রিম কোর্ট। বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগে স্বামীকে যে ছাড় দেওয়া হয়, তার আইনি বৈধতা স্থির করবে শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রীয় সরকার যদি এ বিষয়ে কোনও অবস্থান নাও জানায়, তাহলেও আদালত আইনি দৃষ্টিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বৈবাহিক ধর্ষণে স্বামীকে ছাড় দেওয়ার বিরুদ্ধে গুচ্ছ আবেদনকে মান্যতা দিয়ে শীর্ষ আদালত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে।
সাবালিকা স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে স্বামীরা সচরাচর ছাড় পেয়ে থাকেন বর্তমান আইনি কাঠামোয়। তাকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রের কাছে সরকারের মতামত জানতে চেয়েছিল। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র এ ব্যাপারে কোনও আইনি পদক্ষেপ না করায় শেষমেশ সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারাই আইনি বৈধতা বিচার করবে।
প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং মনোজ মিশ্রকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে বিষয়টির দ্রুত মীমাংসার আর্জি জানান প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং। তাঁর দাবি, এই বিষয়ে অবিলম্বে মীমাংসা হওয়া দরকার। বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার গুরুত্বের উপর জোর দেন তিনি। তাঁর যুক্তির জবাবে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় স্বীকার করেন যে, এর দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
আইনি বৈধতা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, তাতে বর্তমানে বাতিল ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ১৮ বছরে ঊর্ধ্বে কোনও স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনক্রিয়াকে ধর্ষণ বলে গণ্য করা হবে না। এমনকী নতুন প্রবর্তিত ন্যায় সংহিতাতেও বিষয়টিতে একইভাবে স্বামীকে ছাড়ের কথা রয়েছে।
জয়সিংয়ের সঙ্গেই আরেক আইনজীবী আদালতে বলেন, অনেক সময় পাওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র এনিয়ে এখনও কোনও হলফনামা দিয়ে তার অবস্থান জানায়নি। তার জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা আইনের বিষয়। কেন্দ্র যদি হলফনামা না দিয়ে থাকে, তাহলে তারা ইচ্ছা করলে আইনের দিক থেকে যুক্তি তুলতে পারে। এই বলে মামলাটি তালিকাভুক্ত করলেও আজ আরও মামলার চাপের জন্য তা শুনানির জন্য উঠতে পারেনি।