২০১৯ সালের হাওড়া আদালত চত্বরে পুলিশের হামলার ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টের সুয়ো মোটো অবমাননা মামলা আপাতত স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্ট।
.jpeg.webp)
হাইকোর্টের অবমাননা মামলা স্থগিত সুপ্রিম কোর্টে।
শেষ আপডেট: 17 June 2025 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ সালের হাওড়া জেলা আদালত চত্বরে আইনজীবীদের উপর পুলিশের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে শুরু করা হয় সুয়ো মোটো ফৌজদারি অবমাননা মামলা। কিন্তু তার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইঞা ও বিচারপতি মনমোহনের বেঞ্চ সোমবার এই মামলার শুনানি করেন। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তাদের করা আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি গৃহীত হয়। সে ব্যাপারেই নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে, আগামী ছ'সপ্তাহের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের ২ মে তারিখের আদেশ অনুসারে যে কোনও পরবর্তী পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল হাওড়া জেলা সদর আদালত চত্বরে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ওই দিন পুলিশের কিছু সদস্য আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে আইনজীবীদের উপর হামলা চালায়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৯-এর এপ্রিল মাসে নিজের উদ্যোগেই (suo motu) বিষয়টি বিবেচনায় নেয় এবং মে ২০১৯-এ প্রাক্তন বিচারপতি কে জে সেনগুপ্তকে তদন্তের জন্য এক সদস্যের কমিশনের দায়িত্ব দেয়।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট চন্দর উদয় সিং আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতে জানান, হাইকোর্ট পাঁচ বছর পর কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে আবার বিষয়টি সামনে আনে, এবং এইবার এটি Article 226 অনুযায়ী রিট পিটিশনের আকারে বিবেচনা করে।
তবে তাঁর মতে, ২০১৬ সালের মহেশ্বর পেরি বনাম এলাহাবাদ হাইকোর্ট মামলার রায় অনুযায়ী, Contempt of Courts Act-এর ধারা ২০ অনুসারে সুয়ো মোটো অবমাননার কার্যক্রম শুরু করলেও এক বছরের সময়সীমা প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
সিনিয়র অ্যাডভোকেট চন্দর উদয় সিং আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করে বলেন, মূল প্রশ্ন হল, হাইকোর্ট ৫ বছর পর নিজে থেকেই কীভাবে সুয়ো মোটো অবমাননার কার্যক্রম শুরু করতে পারে, বিশেষ করে যখন Contempt of Courts Act, 1971-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী এই ধরনের পদক্ষেপের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারও এই আদেশের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে বিশেষ অনুমতি পিটিশন (SLP) দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
কলকাতা হাইকোর্ট তার আদেশে উল্লেখ করেছে যে, ধারা ২০-এ যে এক বছরের সময়সীমা নির্ধারিত আছে তা কেবল তখনই প্রযোজ্য, যখন কোনও ব্যক্তি আদালতের সামনে অবমাননার অভিযোগ আনে। কিন্তু যখন আদালত নিজেই suo motuভাবে কোনও ঘটনায় পদক্ষেপ নেয়, তখন এই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য নয়।
হাইকোর্টের মতে, '১৯৭১ সালের আইনের ধারা ২০-তে নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা কেবলমাত্র তখনই প্রযোজ্য যখন কোনও ব্যক্তি আদালতের কাছে অবমাননার অভিযোগ আনে। আদালতের নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী (Article 215 অনুযায়ী) স্বতঃপ্রণোদিতভাবে গ্রহণ করা রিট পিটিশনের ওপর এই সীমাবদ্ধতা চাপানো যায় না।'
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে, পরবর্তী ৬ সপ্তাহের মধ্যে মামলাটির ফের শুনানি হবে। আপাতত হাইকোর্টের সুয়ো মোটো কার্যক্রম স্থগিত রইল।