আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল বেসরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের চরম উদাসীনতা।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 April 2026 15:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাজিয়াবাদের নৃশংস ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের (Ghaziabad rape case)। চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় প্রশাসনের ‘উদাসীনতা’ ও ‘সংবেদনহীনতা’ নিয়ে সরব দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পুলিশ কমিশনার ও তদন্তকারী আধিকারিককে সমস্ত নথি-সহ হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিপুল এম পঞ্চোলির বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। নিহত শিশুর বাবার হয়ে সওয়াল করা আইনজীবীর বক্তব্য শুনে তদন্তের ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত (Supreme Court anger)।
ঘটনাটি ১৬ মার্চের। অভিযোগ, চকোলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি শিশুটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর মেয়েকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন বাবা। পরে বাড়ির কাছেই রক্তাক্ত ও অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। প্রথমে দুই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও ভর্তি নেওয়া হয়নি। পরে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন (child murder India)।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল বেসরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের চরম উদাসীনতা। পরিবার জানায়, থানায় গোটা বিষয়টি জানাতে গেলে উল্টে তাঁদের মারধর করা হয়। পরদিন ১৭ মার্চ মামলা দায়ের হয় এবং ১৮ মার্চ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে প্রথম রিপোর্টে শিশু সুরক্ষা আইনের ধারা বা ধর্ষণের ধারা উল্লেখ ছিল না।
বিচারপতিরা জানান, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক নথিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের উল্লেখ থাকলেও যৌন নির্যাতনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধই হয়নি। অভিযোগ, ময়নাতদন্তেও সেই নির্মম নির্যাতনের পূর্ণ বিবরণ নেই।
নিহতের আইনজীবীর দাবি, শিশুটির গোপনাঙ্গে ভোঁতা বস্তু প্রবেশ করানো হয়েছিল। অথচ পুলিশ প্রথমে ঘটনাটিকে শুধু খুন হিসেবে দেখাতে চায়। এমনকি পুলিশের রিপোর্টে শিশুটি ঘটনাস্থলেই মৃত বলা হলেও একটি ভিডিওতে তাকে জীবিত অবস্থায় দেখা গিয়েছে।
এদিকে, প্রতিদিন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য শিশুটির বাবাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শীর্ষ আদালত এসব শুনে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, কোনওভাবেই পরিবার বা সাক্ষীদের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাবে না।
গাজিয়াবাদ প্রশাসনের দাবি, ইতিমধ্যেই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে সন্তুষ্ট নয় আদালত। কেন্দ্রীয় সংস্থার নেতৃত্বে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে বেঞ্চ। পাশাপাশি, চিকিৎসা পরিষেবা না দেওয়া হাসপাতালগুলিকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।
মামলাটির পরবর্তী শুনানি সোমবার।