
সুপ্রিম কোর্ট - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2024 17:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের নির্বাচনে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
কে এ পল নামের মামলাকারী ব্যালট ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দিয়েছিলেন, চন্দ্রবাবু নাইডু, জগন মোহন রেড্ডির মতো নেতারাও ইভিএম কারচুপি নিয়ে সরব হয়েছে। ইভিএম নিয়ে অভিযোগের কোনও শেষ নেই। তাই তা বাতিল করে আবার ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনা হোক। কিন্তু এই যুক্তি মানতে চায়নি শীর্ষ আদালত। বরং পাল্টা প্রশ্ন করা হয়েছে, 'জিতলে ইভিএম কারচুপি হয় না?'
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং পিবি ভারালের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, 'চন্দ্রবাবু নাইডু, জগন মোহন রেড্ডির মতো নেতারা যখন ভোটে জেতেন তখন ইভিএম নিয়ে অভিযোগ করেন না। তখন ইভিএমে কারচুপি হয় না। এটাকে আমরা কীভাবে দেখব? এসব যুক্তি নিয়ে তর্ক করার জায়গা এটা নয়।' পাশাপাশি অন্য একটি বিষয়ের আর্জি জানালেও মামলাকারীকে কার্যত তিরস্কার করে সর্বোচ্চ আদালত।
মামলাকারীর দাবি ছিল, নির্বাচনের কোনও প্রার্থী যদি ভোটের প্রচারে টাকা বা মদ বিলি করতে গিয়ে ধরা পড়ে তাহলে যেন তাঁকে পাঁচ বা তার বেশি বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। নির্বাচন কমিশনকে এই মর্মে নির্দেশ দিতে আর্জি জানানো হয়েছিল। এই আবেদনও খারিজ করে সুপ্রিম কোর্ট মামলকারীকে প্রশ্ন করে, 'আপনার আর্জিগুলি বেশ অন্যরকম। এত ভাল আইডিয়া কীভাবে পান?' যদিও মামলাকারীর সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষেত্রের কোনও সম্পর্ক নেই।
শীর্ষ আদালত এই বিষয়টি নিয়েও কার্যত অবাক হয়েছে। আসলে মামলাকারী এমন এক সংস্থার প্রেসিডেন্ট যারা ৩ লক্ষ অনাথ শিশু এবং ৪০ লক্ষ বিধবা মহিলাকে এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করেছে। সেই সংস্থার মুখ হয়ে হঠাৎ রাজনৈতিক ইস্যুতে কেন মামলা করছেন তিনি তা জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট। যদিও ইভিএম নিয়ে নিজের যুক্তিতে অনড় ছিলেন তিনি।
কে এ পলের স্পষ্ট কথা, গণতন্ত্রের সর্বনাশ করছে ইভিএম। ভারতের উচিত আমেরিকার মতো ব্যালট পেপারে ভোট করানো। তিনি ইলন মাস্কের ইভিএম নিয়ে মন্তব্যকেও হাতিয়ার করেছেন। এক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্ন, 'বাকি বিশ্বের থেকে আপনি কেন আলাদা হতে চাইছেন না?'