
তাঁদের নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে ছেড়ে দিয়ে আসা হয় যেন।
শেষ আপডেট: 4 February 2025 14:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসি-সিএএ বিতর্ক চলাকালীন 'বিদেশি' সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের ডিটেনশন সেন্টারে দিনের পর দিন রেখে দেওয়ায় অসম সরকারকে চরম ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত অসম সরকারের ভূমিকায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন করল, কেন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হচ্ছে, যদি তাঁরা সত্যিই বিদেশি হন, অর্থাৎ ভারতের নাগরিক না হন, তাহলে কেন তাঁদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না? অসম সরকারের কাছে সর্বোচ্চ আদালতের প্রশ্ন, আপনারা কি 'মুহরত'এর (শুভ মুহূর্ত) জন্য অপেক্ষা করছেন?
এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভয় এস ওকা ও উজ্জ্বল ভুইঞাকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারকে নির্দেশ দেয়, যত দ্রুত সম্ভব বিদেশিদের তাঁদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে হবে। অসম সরকার আদালতকে জানিয়েছিল, যাঁদের আটক করা হয়েছিল তাঁদের সঠিক ঠিকানা জানা নেই বলে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না। জবাবে বেঞ্চ বলে, যদি ঠিকানা জানা না থাকে তাহলে তাঁদের নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে ছেড়ে দিয়ে আসা হয় যেন।
বেঞ্চ আরও বলে, বিদেশিদের ঠিকানা জানা নেই বলে আপনারা তাঁদের ফেরত পাঠাতে পারছেন না। তাঁদের প্রত্যর্পণের কাজ শুরুই করেননি। এটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করার প্রয়োজন কী! আপনাদের ওদের দেশে ফেরত পাঠানোই কাজ। আপনারা কি তার জন্য শুভ মুহূর্ত খুঁজছেন, প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের। আদালত ভর্ৎসনার সুরে বলে, আপনারা যখন একজনকে বিদেশি নাগরিক বলে চিহ্নিত করেছেন, তখন পরবর্তী পদক্ষেপ আপনাদেরই করতে হবে। যেটা উচিত কাজ তা করতে হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখার কোনও অধিকার নেই। সংবিধানের ২১ ধারা তাই বলে।
অসমের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকটি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কতজনকে আপনারা এ পর্যন্ত দেশে ফেরত পাঠিয়েছেন? রাজ্য সরকারের তরফে হাজির থাকা কৌঁসুলিকে বলে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ। মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে দু-সপ্তাহ সময় দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করার নির্দেশ দেয়। শুধু তাই নয়, এ ব্যাপারে পরবর্তী দিন সরকারকে একটি হলফনামা দাখিল করতে বলেছে আদালত। বিচারপতি ওকা অসমের মুখ্যসচিবকে বলেন, আপনারা তো তাঁরা কোন দেশের তা জানেন। তাহলে তাঁদের ঠিকানা জানার আপনাদের দরকার কি? সেই দেশে পাঠিয়ে দিন, তারা ঠিকানা জোগাড় করে দেবে।