ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 January 2025 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার দেশের প্রত্যেক আদালতে পুরুষ, মহিলা, বিশেষভাবে সক্ষম ও রূপান্তরকামীদের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা শৌচালয়। বুধবার এক জনস্বার্থ মামলায় এমনই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানিয়েছে, মহিলা এবং রূপান্তরকামীদের গোপনীয়তা রক্ষা হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে টয়লেট তৈরি হলে। পাশাপাশি আদালতে গিয়ে তাঁদের উদ্বেগও দূর হবে। এটা প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন। ইতিমধ্যে দেশের সব হাই কোর্ট, রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শীর্ষ আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, আদালত চত্বরে এই ব্যবস্থা রয়েছে কি না তা দেখার দায়িত্ব হাই কোর্টকেই নিতে হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট শৌচালয় সবাই ঠিকমতো ব্যবহার করছেন কি না তাও খতিয়ে দেখতে হবে। এর জন্য হাই কোর্টে একটি করে কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সেই কমিটি গঠন করতে হবে। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির মনোনীত কোনও বিচারপতি ওই কমিটির প্রধান হবেন। এছাড়া হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার, রাজ্যের মুখ্যসচিব, পূর্তসচিব, অর্থসচিব, বার অ্যাসোসিয়েশনের একজন করে প্রতিনিধি এবং অন্য আধিকারিকদের কমিটিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিটির প্রথম কাজ প্রতিদিন গড়ে কত মানুষ আদালতে আসছেন তা খতিয়ে দেখে শৌচালয় বানানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক শৌচালয় তৈরি হচ্ছে কি না এবং সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না, তাও সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া শৌচালয় নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারগুলিকে পর্যাপ্ত টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক হাই কোর্ট, রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এ বিষয়ে একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
রাজীব কলিতা নামে অসম বার কাউন্সিলের এক আইনজীবী এই জনস্বার্থ মামলাটি করেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, খাদ্য ও বাস্থস্থানের মতো শৌচালয়ও মানুষের প্রাথমিক অধিকার। তাই এই অধিকার সুনশিচিত করা আমাদের কর্তব্য।
শীর্ষ আদালতের আরও নির্দেশ মহিলাদের শৌচালয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন ডিসপেনসার অবশ্যই রাখতে হবে। তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কমিটিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। পাশপাশি এই নির্দেশ না মানলে তা আদালত অবমাননা বলেই ধরে নেওয়া হবে। যার জন্য কড়া শাস্তিও হতে পারে। তবে দেশের শীর্ষ আদালতের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।