
শেষ আপডেট: 15 December 2023 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মথুরার শাহী ঈদগা মসজিদ নিয়ে সমীক্ষার দাবিতে সায় দিল এবার সুপ্রিম কোর্টও। বৃহস্পতিবারই ওই দাবিতে সায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখে।
ফলে এই মামলায় মুসলিম পক্ষ জোর ধাক্কা খেল। রায় অনুযায়ী আদালত নিয়োজিত কমিটি খতিয়ে দেখবে হিন্দু পক্ষের দাবি। হাইকোর্ট ১৮ ডিসেম্বর সোমবার থেকে সমীক্ষা শুরুর নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সেই আদেশ বহাল রেখেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে ৯ জানুয়ারি।
আদালতে দাবি করা হয়েছিল, মসজিদের ১৩ একর জমিই শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি। সেখানেই ছিল মূল মন্দির।
উল্লেখ্য, বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে একই ধরনের সমীক্ষা গত বছর শেষ হয়েছে। সেই সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে সেখানে বৈজ্ঞানিক নিরীক্ষণের কাজ করছে ভারতের পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ সংস্থা বা এএসআই। চলতি মাসের শেষে তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়ার কথা।
ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, একই পথে এগোতে পারে মথুরার মামলাও। নতুন করে শুরু হতে পারে মন্দির-মসজিদ রাজনীতি।
মথুরার মামলায় দাবি করা হয়, শাহী ঈদগা মসজিদে হিন্দু মন্দিরের নিদর্শন রয়েছে। সেই অংশ হিন্দুদের ফিরিয়ে দিক আদালত। বারাণসীর আদালতের মতো মথুরার ক্ষেত্রেও আদালত সমীক্ষার নির্দেশ দিক। সেই দাবিতেই বৃহস্পতিবার সায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
মুসলিম পক্ষ শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়ে বলে ১৯৯১ সালের প্রোটেকশন অফ প্লেসেস অফ ওরশিপ আইন অনুযায়ী কোনও ধর্মীয় স্থানের কাঠামো, রূপ বদল করা যাবে না। ১৯৪৭ এর ১৫ অগাস্ট যে অবস্থায় ছিল সেই অবস্থাতেই রাখতে হবে। হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট বলে, কাঠামো বদলের অনুমতি আদালত দিচ্ছে না। তবে ওই আসনে ইতিহাস পুনরুদ্ধারে বাধা নেই। হিন্দু পক্ষের দাবি সত্যি কিনা তা খতিয়ে দেখা যেতেই পারে। অনেকেই আদালতের রায়ে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করছেন, হিন্দু পক্ষের দাবি সত্য প্রমাণিত হলে তখন মসজিদ ভেঙে মন্দির করার দাবি ওঠা অসম্ভব নয়।
সমীক্ষার দাবি জানিয়ে মথুরার স্থানীয় আদালতে একগুচ্ছ মামলা হয়েছিল। নিম্ন আদালত সমীক্ষায় সায় না দেওয়ায় মামলাকারিরা হাই কোর্টে যান।
গত ১৩ মে দায়ের হওয়া প্রথম মামলাটি করেন নারায়ণী সেনা নামের একটি সংগঠনের জাতীয় সভাপতি মণীশ যাদব। তাঁর বক্তব্য, শাহী ইদগা মসজিদের ভিতরে হিন্দু মন্দিরের বহু নিদর্শন রয়েছে। সেগুলি নষ্ট করে ফেলার আগে ভিডিও সমীক্ষা করা প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত, মণীশ যাদব শ্রীকৃষ্ণজন্মভূমি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত একটি মামলারও মূল আবেদনকারী। এই রকম একাধিক মামলায় দাবি করা হয়, মসজিদ সরিয়ে নিতে হবে। সেটি শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমির উপর তৈরি হয়েছে।
মামলাগুলির সঙ্গে বিশ্বহিন্দু পরিষদের ঘোষণার মিল রয়েছে। তারা আগেই ঘোষণা করে রেখেছে, অযোধ্যায় রামজন্মভূমি পুনরুদ্ধারের পর মথুরা এবং বারাণসী নিয়ে লড়াইয়ে নামবে। রাম মন্দির - বাবরি মসজিদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় এক্ষেত্রে ভিএইচপির বড় হাতিয়ার।
অযোধ্যার ক্ষেত্রে বিতর্কিত জমি রামের জন্মস্থান বলে মেনে নেয় শীর্ষ আদালত। আদালতের রায়ে সেখানে জোরকদমে চলছে রামমন্দির নির্মাণের কাজ।
অযোধ্যা মামলার রায়ের পরই বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছিল, ওই রায়কে হাতিয়ার করে হিন্দু পক্ষ এরপর অন্যত্র হিন্দু মন্দির, দেবস্থান পুনরুদ্ধারের দাবি তুলতে শুরু করবে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মসূচির মধ্যেও তা আছে। বস্তুত সেই কারণে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তারা নয়া স্লোগান আমদানি করে, 'এত সিরফ ঝাঁকি হ্যায়, কাশী, মথুরা বাকি হ্যায়।'
লক্ষ্যণীয় হল, বারাণসীতে জ্ঞানবাপী মসজিদ চত্বরে শৃঙ্গারগৌরী দেবীর মন্দিরে সারা বছর পূজাপাঠ করার অনুমতি চেয়ে মামলা করেছেন পাঁচ মহিলা, যাঁদের চারজন সাধারণ গৃহবধূ। আইনি লড়াই করছে আসলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদই।