
ভারতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতি তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করবেন।
শেষ আপডেট: 3 April 2025 12:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার সরকারি আবাস থেকে টাকার পাহাড় উদ্ধারের ঘটনায় বিচারপতিদের আয় ও সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি প্রকাশের দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। সে বিষয়ে এক দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত নিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। আইন, দেশবাসী ও বিবেকের কাছে স্বচ্ছ থাকতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা সর্বসম্মতভাবে প্রকাশ্যে সম্পত্তির পরিমাণ ঘোষণায় সম্মত হয়েছেন।
গত ১ এপ্রিল সব বিচারপতিকে নিয়ে একটি ফুল কোর্ট বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিচারপতি বর্মার বাড়ি থেকে নগদ টাকার পাহাড় উদ্ধারের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই বিচার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রকদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে সুশীল সমাজের মধ্য থেকে। তারপর থেকেই বিচারপতিদের আয় ও সম্পত্তি ঘোষণার দাবি ওঠে। তাঁদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তির স্বচ্ছতা জনসাধারণের জানা উচিত বলে অনেকেই মতপ্রকাশ করেন।
বৈঠকে পাশ হওয়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতি তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করবেন। তারপর তা সর্বোচ্চ আদালতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়া হবে। তবে তা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে কিনা তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। যদিও স্বচ্ছতার প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি বৈঠকের প্রস্তাবে গৃহীত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে একটি পেজ রয়েছে অ্যাসেটস অফ জাজেস নামে। কিন্তু এতে ক্লিক করে দেখা যায় যে তা জনসাধারণের জন্য নয়। ফলে সেখানে কী রয়েছে, তা দেশের মানুষ জানতে পারেন না। অথচ নির্বাচনে লড়াই করা প্রতিটি প্রার্থীকে হলফনামায় তাঁদের সম্পত্তির বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক রয়েছে। কমিশনের ওয়েবসাইটে যে কোনও সময় তা দেখতে পারেন দেশের যে কোনও মানুষ।
১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম স্থির করে যে, প্রতি বিচারপতিকে তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু তা প্রকাশ্যে আসবে না, শীর্ষ বিচারপতির কাছেই গোপন রাখা হবে। তবে পুরোটাই স্বেচ্ছাকৃত, কেউ জমা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কোনও ব্যবস্থা নেই। ২০০৫ সালে তথ্য জানার অধিকার আইনে একজন প্রধান বিচারপতির অফিসের কাছে তথ্য জানতে চান। এ নিয়ে পাল্টা আরও একটি মামলা হয় দিল্লি হাইকোর্টে। যেখানে মামলাকারী ছিল খোদ সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু, ২০০৯ সালে ওই মামলায় শীর্ষ আদালত হেরে যায়।
এরপর হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ঘুরে সেই মামলা আসে সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেও প্রথমে দুই সদস্যের, তারপরে তিন সদস্যের বেঞ্চে যায় মামলা। সেখানে ৮ বছর ঝুলে থাকার পর তিন সদস্যের বেঞ্চ মামলাটি পাঠায় পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টেই হেরে যায় মামলাকারী সুপ্রিম কোর্ট। চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হয়। বিচারপতিদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণার রায় দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও ঘোষণার বিষয়টি স্বেচ্ছাকৃত হওয়ায় যদি কোনও বিচারপতি নিজে থেকে ঘোষণা না করেন তাহলে কিছুই ঘোষিত হবে না। বিভিন্ন হাইকোর্টেও কমবেশি এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।