ভারতের সংশোধনাগার ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে এবং 'ওপেন প্রিজন' বা মুক্ত সংশোধনাগার ধারণাটিকে আরও কার্যকর করতে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 2 March 2026 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সংশোধনাগার ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে এবং 'ওপেন প্রিজন' বা মুক্ত সংশোধনাগার ধারণাটিকে আরও কার্যকর করতে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এক রায়ে ভারতের মুক্ত সংশোধনাগারগুলিকে ঢেলে সাজানোর জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি (High-Powered Committee) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রবীন্দ্র ভাটকে এই কমিটির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে।
৩ মাসের মধ্যে রূপরেখা তৈরির নির্দেশ
পিএলআই (PIL) দায়ের করেছিলেন মানবাধিকার কর্মী সুহাস চাকমা। সংশোধনাগারে উপচে পড়া ভিড় এবং বন্দিদের অমানবিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩ মাসের মধ্যে দেশের মুক্ত সংশোধনাগারগুলির সংস্কার এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
কমিটিতে থাকবেন জাতীয় আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের (NALSA) সদস্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব বা তাঁর প্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্বরাষ্ট্র সচিবরা এবং পুলিশ গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যুরোর (BPR&D) প্রতিনিধিরা।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শীর্ষ আদালত বলেছে, “সংস্কার, পুনর্বাসন এবং সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনাই ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।” সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে বেঁচে থাকার অধিকারের মধ্যে বন্দিদের মর্যাদা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রায়ের মূল দিক
হাইকোর্টের নজরদারি
এই নির্দেশ যাতে যথাযথভাবে পালিত হয়, সেজন্য সুপ্রিম কোর্ট দেশের প্রতিটি হাইকোর্টকে 'suo motu writ petition' বা স্বতঃপ্রণোদিত মামলা নথিভুক্ত করে নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, প্রতিটি রাজ্যে রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক রায় নিয়ে মামলাকারী সুহাস চাকমা বলেন, “এটি একটি যুগান্তকারী রায়। মুক্ত সংশোধনাগারগুলির পরিকাঠামো এবং কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করতে হাইকোর্ট (High Court) ও সুপ্রিম কোর্টের যৌথ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্দিদের মানবিক মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।”