.webp)
কাঁওয়াড়ি বা জলযাত্রীদের পছন্দমাফিক দোকান বেছে নেওয়ার সুবিধার জন্য এটা করা হয়েছে।
শেষ আপডেট: 26 July 2024 15:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঁওয়াড় যাত্রাপথে দোকানিদের নাম-পরিচয় লিখে রাখার নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানির দিন, আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিতাদেশের মেয়াদ থাকছে। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্য সরকার সম্প্রতি এক নির্দেশে জানায় যে, শ্রাবণ মাসে শিবমন্দিরে জল ঢালতে যাওয়া ভক্তদের যাত্রাপথে যেসব খাবারের দোকান পড়বে, তার মালিক ও কর্মীদের নাম দোকানের সামনে লিখে রাখতে হবে। এনিয়ে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। শেষমেশ বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শুক্রবার সেই নির্দেশের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বোচ্চ আদালত বলে, কাউকে তার নাম ঘোষণা করতে বাধ্য করা যায় না।
এর আগে এদিনই উত্তরপ্রদেশ আদালতে এই নির্দেশের নেপথ্য যুক্তি হিসেবে বলে, কাঁওয়াড়ি বা জলযাত্রীদের পছন্দমাফিক দোকান বেছে নেওয়ার সুবিধার জন্য এটা করা হয়েছে। বিভ্রম এড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, যাতে কোনও অশান্তির ঘটনা না ঘটে সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
বিচারপতি হৃষীকেশ রায় এবং এসভিএন ভাট্টির বেঞ্চ এদিন বলে, দোকান বা দোকানের কর্মচারীদের নাম প্রকাশ্যে আনার জন্য কাউকে বাধ্য করা যায় না। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ সরকার হলফনামায় তাদের বক্তব্য জানালেও মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড জবাব না দেওয়ায় দুই রাজ্যকেই অতিরিক্ত সময় দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অফ সিভিল রাইটসের তরফে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, অধ্যাপক অপূর্বানন্দ এবং কলমচি আকর প্যাটেল তিন সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিলেন।
দেশের শীর্ষ আদালতে উত্তরপ্রদেশ সরকার এদিন জানায়, তীর্থযাত্রীদের একটা বড় অংশ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছিল যে তাঁরা রাস্তায় বেরিয়ে খাবার খেতে সমস্যায় পড়ছেন। দোকান দেখে বুঝতেই পারছেন না কোন দোকানে গেলে নিরামিষ বা নিজেদের পছন্দের খাবার পাবেন। সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যোগী প্রশাসনের বক্তব্য, হিন্দু তীর্থযাত্রীরা যাতে অহিন্দুদের খাবারের দোকানে ঢুকে না পড়েন, নিরামিষভোজীরা যাতে আমিষ খাবারের দোকান এড়িয়ে চলতে পারেন তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলি তো বটেই, এনডিএ-র একাধিক শরিক এবং বিজেপির বেশ কিছু নেতাও আপত্তি তুলেছিলেন। বিরোধীদের দাবি ছিল, ধর্মীয় প্রবিত্রতা রক্ষার নামে আসলে ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দুই সরকারই শীর্ষ কোর্টে ধাক্কা খায়।