
শেষ আপডেট: 13 December 2023 13:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশ্ন ঘুষ কাণ্ডের অভিযোগে গত শুক্রবার এথিক্স কমিটির প্রস্তাব মেনে মহুয়া মৈত্রকে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে এবং এথিক্স কমিটির এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলা দায়ের করেছিলেন কৃষ্ণনগরের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ। এদিন তাঁর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি এস কে কাওলের ডিভিশন বেঞ্চ।
বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার দুপুর ২টয় শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন মহুয়ার আইনজীবী। কিঁন্তু বিচারপতি ই মেলের মাধ্যমে আবেদন জানানোর নির্দেশ দেন। তিনি জানিয়েছেন, "বিষয়টি আমরা দেখে নেব।"
এরপর প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চেও আর্জি জানিয়েছিলেন মহুয়া। সেই আবেদনও মঞ্জুর করেনি শীর্ষ আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় মোট ১৫ পাতার আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ। তাতে বেশ কয়েকটি গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সূত্রের খবর, এথিক্স কমিটির তদন্ত রিপোর্ট লোকসভায় পেশ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যমে কীভাবে ফাঁস হল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন মহুয়া। একই সঙ্গে এথিক্স কমিটির এক্তিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে মহুয়ার আইনজীবীর দাবি, ‘সাংসদকে বহিষ্কারের ক্ষমতা একমাত্র রয়েছে সংসদের স্বাধিকার রক্ষা কমিটির এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি।’ তদন্তের নামে তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রসঙ্গটিও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
ঘটনার সূত্রপাত সেই অক্টোবর মাসে। মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল লোকসভায় প্রশ্ন করার জন্য তিনি নাকি শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে ঘুষ বাবদ নগদ ও নানা ধরনের উপহার নিয়েছেন। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে এই ব্যাপারে প্রথম সরব হন। তারপর এই বিষয় নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ চলে সমান তালে। অবশেষে শুক্রবার মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ হল লোকসভায়।
শুক্রবারই এব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর কথায়, “মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে কোনও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তার আগেই তাঁকে শাস্তি দিয়ে দেওয়া হল।”
মঙ্গলবার মহুয়া মৈত্রকে সাংসদ বাংলো ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় লোকসভার সচিবালয়। এ ব্যাপারে তাঁকে একটি চিঠিও পাঠানো হয়। ওই চিঠির জবাব কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ দিয়েছেন কিনা তা জানা যায়নি।
সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগরের প্রাক্তন সাংসদ মহুয়া আপাতত নিখরচায় যাতায়াতের সুবিধা পাবেন না। বর্তমান লোকসভার মেয়াদ পুরোপুরি শেষ হলে প্রাক্তন এমপি হিসাবে যদিও সুবিধা পাবেন তিনি।