
শেষ আপডেট: 8 January 2024 08:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অনেকে। অবশেষে আজ সেই আর্জিগুলির শুনানি হতে চলেছে। এরমধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলাও রয়েছে। অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মহুয়া মৈত্র, সিপিএমের প্রবীণ নেত্রী সুভাষিণী আলি, সাংবাদিক রেবতী লাল এবং অধ্যাপক রূপরেখা বর্মা সু্প্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রায় বছর খানেকেরও বেশি সময় ধরে সেই শুনানি চলার পর আজ সেই মামলার রায় শোনাতে পারে দেশের শীর্ষ আদালত।
বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং উজ্জ্বল ভুঁইয়া গতবছর ১২ অক্টোবর রায় স্থগিত রেখেছিলেন। আদালত জানিয়েছিল, মেয়াদ শেষের আগেই অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া হবে কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা অমৃত মহোৎসবের আগে বিলকিসকে ধর্ষণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের (Bilkis Bano Case) খুনের দোষীদের মুক্তির সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল গুজরাত। এর পর আদালতের সম্মতিতে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। সরকারি তরফে জানানো হয়, জেলে ওই ১১ অপরাধীর ব্যবহার দেখেই তাদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ ছিলেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে কী কী মানদণ্ড বিবেচনা করে ওই ১১ অপরাধীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, তথ্যের অধিকার আইনে তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু মুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী প্যানেলের বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে তথ্য দিতে চায়নি গুজরাত সরকার। তাই শীর্ষ আদালতে পাল্টা মামলা দায়ের হয়।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালে গোধরা-কাণ্ডের পর গুজরাতে সাম্প্রদায়িক হিংসা চলাকালীন, ৩ মে দাহোড় জেলার দেবগড় বারিয়া গ্রামে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। গ্রামের বাসিন্দা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বিলকিসকে গণধর্ষণ করা হয়। বিলকিসের চোখের সামনেই তাঁর ৩ বছরের মেয়েকে নৃশংসভাবে খুন করে অপরাধীরা। এই অপরাধকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ বলেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মুম্বইয়ের সিবিআই আদালতে অপরাধীদের কঠোর সাজা দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়েছিল। ২০০৮ সালের ২১ জানুয়ারি মোট ১২ জনের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিল ওই বিশেষ আদালত। মামলা চলাকালীন ১ জনের মৃত্যু হয়। বাকি ১১ জন ধর্ষক ও খুনি মুক্তি পায়।