
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 January 2025 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিলের মামলার শুনানির শুরুতেই সুপারনিউমেরি পোস্ট নিয়ে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্নের মুখে রাজ্য সরকার। কেন এই পোস্ট তৈরি হয়েছিল, তা জানতে চায় আদালত। একই সঙ্গে যোগ্য এবং অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বাছাই করতে রাজ্যের সম্মতি রয়েছে কিনা, তারও উত্তর চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
রাজ্যের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করছেন আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী। তাঁকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, অযোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে বের না করে সুপারনিউমেরি পোস্ট তৈরি করা হল। এতে এটা নিশ্চিত করা গেল যে কেউই বাদ যাবে না। যদিও এই প্রসঙ্গে রাজ্যের আইনজীবী জানান, তাঁরা কাউকে নিয়োগ করেননি, কলকাতা হাইকোর্টের সম্মতি ছাড়া নিয়োগ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, সিবিআই দাবি করেছিল যে তাঁদের তদন্তে নির্দিষ্ট সংখ্যক বেআইনি নিয়োগ ধরা পড়েছে। তা হলে কেন পুরো ২৪ হাজার নিয়োগ বাতিল করা হল, এই প্রশ্ন তাঁর। মূল মামলা দায়ের হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২-৩ বছর পরে, এটিও আদালতে উল্লেখ করেন তিনি।
এর পাশাপাশি তিনি এও জানান, যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের বাছাইয়ে তাঁদের সমর্থন রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এই বিষয়ে আলাদা করে তথ্য দিয়েছে বলেও সুপ্রিম কোর্টে অবগত করেছেন রাজ্যের আইনজীবী। এদিকে ওএমআর সিট প্রসঙ্গও স্বাভাবিক ওঠে এই মামলার শুনানিতে। এটি নষ্ট করা হয়েছিল কিনা, নষ্ট করলেও তা কত দিনের মধ্যে করার নিয়ম রয়েছে, সেইসব তথ্য জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
চাকরিহারাদের আইনজীবী আবার সিবিআই-এর উদ্ধার করা ওএমআর সিটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালতে তাঁর দাবি, ওই সমস্ত ওএমআর সিটের বৈদ্যুতিন তথ্যের ৬৫বি এভিডেন্স আইন অনুযায়ী যাচাই করার কোনও শংসাপত্রও নেই। এদিকে এসএসসির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আদালতে বলা হয়েছে, কোনও টেন্ডার ছাড়াই নাইসাকে দায়িত্ব দিয়েছিল এসএসসি। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বক্তব্য, একটা জিনিস পরিষ্কার, আসল এবং স্ক্যান ওএমআর সিট এক নয়। অনেক কিছু গোপন করা হয়েছে।
এর পাল্টা আবার এসএসসি-র আইনজীবী বলেন, ধাপে ধাপে পরীক্ষা হয়েছে। তাই সব ওএমআর সিট সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব ছিল না। ২০২১ সাল পর্যন্ত কোনও অনিয়মের অভিযোগ আসেওনি। তবে ২৬ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দেওয়ার পর কিছু নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে কার্যত স্বীকার করে নেন তিনি। এরপরই কোন কোন ওএমআর শিটের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সেই তথ্য দুপুর ২টোর মধ্যে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পর এই মামলার শুনানি শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে চলছে শুনানি। গত শুনানিতে নথি দেখে দ্রুত মামলার নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছিলেন আবেদনকারীদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আদালত জানিয়ে দেয়, এই মামলায় অনেকগুলি দিক রয়েছে। তাই আরও শুনানির প্রয়োজন রয়েছে। এবার এটাই দেখার আজ কী নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই সিবিআই চাকরিহারাদের মধ্যে যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাইয়ের কাজ শুরু করে। সিবিআই সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে ২৫ হাজারের বেশি চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে যোগ্য-অযোগ্যদের বাছাইপর্ব হয়ে গেছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীদের সাক্ষাৎপর্ব ও তথ্য সংগ্রহের কাজও প্রায় শেষ করে এনেছেন সিবিআই আধিকারিকরা।
চলতি বছর এপ্রিল মাসের ২২ তারিখ কলকাতা হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ২০১৬ সালের এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ফলে প্রায় ২৬ হাজার জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন চাকরিহারাদের একাংশও। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।