
শেষ আপডেট: 22 March 2025 17:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি অনুষ্ঠানে ৭০ ঘণ্টা কাজের নিদান দিয়েছিলেন ইনফোসিস কর্তা নারায়ণ মূর্তি। পড়েছিলেন সমালোচনার মুখে। রীতিমতো আক্রমণের শিকার হন। চর্চা চলে সর্বত্র। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ ও বিশিষ্ট লেখিকা সুধা মূর্তি। স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিলেন তিনি।
কাজ পাগল মানুষ নারায়ণ মূর্তি। একথা আগেও বলেছেন সাংসদ। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে ইনফোসিসের প্রথম সময়কার গল্প উঠে এসেছে। যা কম-বেশি আজ প্রায় সকলেরই জানা। ৭০ ঘণ্টা কাজের বিষয়েও সেই প্রসঙ্গই তোলেন সুধা মূর্তি। জানিয়ে দেন, যদি কোনও কাজে সত্যি কারও আগ্রহ থাকে তাহলে তিনি সময়ের দিকে তাকাবেন না। সময় কখনও কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
সম্প্রতি এক সংবাদ মাধ্যমের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন প্রসঙ্গে সেখানে তাঁকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ওঠে ৭০ ঘণ্টা কাজের কথাও। তখনই নারায়ণ মূর্তির পাশে দাঁড়ান সুধা। তবে, যথেষ্ট যুক্তি দেন সাপেক্ষে। সকলের জ্ঞাতার্থে জানান, যখন কোনও মূলধন ছাড়া শুধুমাত্র নিষ্ঠাবান সহকর্মীদের সঙ্গে ইনফোসিস গড়ার স্বপ্ন দেখেন, তখন ৭০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়েছে সকলকে।
শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার আর সৌভাগ্যের জন্য ইনফোসিস এত বড় সংস্থা হয়ে উঠেছে। এমনি এমনি হয়নি। কোনও জাদু কাঠি ছিল সংস্থার কাছে ছিল না।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাফ বলেন, 'নারায়ণ মূর্তি সংসারে খুব একটা সময় দিতে পারতেন না শুরুতে। তখন আমি ওকে বলে দিয়েছিলাম, তুমি ইনফোসিস দেখো, আমি আমার জীবন ও পরিবার সামলে নেব।' স্বামীকে দোষারোপ করে লাভ নেই, কারণ তিনি আরও বড় কিছু করছেন। এমনভাবেই ভাবেন তিনি।
আর শুধু আইটি সেক্টর বা ইনফোসিস নয়। চিকিৎসা ক্ষেত্র, সংবাদমাধ্যম-সহ আরও অনেক পেশায় ৯০ ঘণ্টাও কাজ করতে হয়।
কাজ করে প্রতিষ্ঠিত হবেন, এই স্বপ্ন পূরণ করতে গেলে সঙ্গীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেন, নারায়ণ মূর্তি যখন ইনফোসিস গড়ার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখন তিনি নিজে ঘর সামলেছেন, সন্তানদের বড় করেছেন, এমনকি কম্পিউটার সায়েন্স পড়াও শুরু করেন। পাশাপাশি নিজের লেখা চালিয়ে যান। পরে সব সামলে ইনফোসিস ফাউন্ডেশন-এর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হয়ে যান। বলেন, 'প্রতিটি সফল নারীর পেছনে একজন বোঝদার পুরুষ থাকে।'
ইনফোসিসের অন্যতম শক্ত পিলার মনে করেন, ভগবান সকলের জন্য ২৪ ঘণ্টা সমানভাবে দিয়েছেন। কেউ ধনী হোন বা দারিদ্র, সুন্দর হোন বা সাধারণ। কারও যদি কোনও বিষয়ে সত্যিই আগ্রহ থাকে, তবে তাকে সময় দিতেই হবে। আর একে অপরের স্বপ্নকে সমর্থন করাই আসল সম্পর্কের ভিত্তি।