
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 29 August 2024 09:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ছাত্র আত্মহত্যার ঘটনা! বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং সামগ্রিক আত্মহত্যার প্রবণতাকে ছাড়িয়ে গেছে এই সংখ্যা। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) তথ্য দেখে শিউরে ওঠার মতো পরিস্থিতি দেশে।
এনসিআরবি-র ডেটার উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি প্রতিবেদন রিপোর্ট সামনে এসেছে আইসি-৩ (IC3) ও এক্সপোর বার্ষিক কনফারেন্সে। আইসি-৩ হল, আন্তর্জাতিক কেরিয়ার ও কলেজ কাউন্সেলিং (International Career & College Counseling)। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবক-ভিত্তিক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটিতে পড়ে কেরিয়ার গড়ার ব্যাপারে কাউন্সেলিং ও প্রশিক্ষণ দুইই দেয়।
'ছাত্র আত্মহত্যা: যে মহামারী আছড়ে পড়তে চলেছে ভারতে' (Student suicides: An epidemic sweeping India) শীর্ষক সে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যে দেশে সামগ্রিক আত্মহত্যার সংখ্যা বার্ষিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে ছাত্র আত্মহত্যার ঘটনাগুলি ততটা সামনে আসে না। তার পরেও ছাত্র আত্মহত্যার ঘটনা চার শতাংশ বেড়েছে।
রিপোর্ট বলছে, 'গত দু'দশকে, ছাত্রদের আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনক হারে চার শতাংশ বেড়েছে বার্ষিক, যা জাতীয় আত্মহত্যার গড় পরিসংখ্যানের দ্বিগুণ। ২০২২ সালে মোট ছাত্র আত্মহত্যার ৫৩ শতাংশ পুরুষ ছাত্র ছিল। যা থেকে বলা যায়, ছাত্রদের আত্মহত্যা ৬ শতাংশ কমেছে। তবে ছাত্রীদের আত্মহত্যা ৭ শতাংশ বেড়েছে৷ এইসব আত্মহত্যার ঘটনা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এবং সামগ্রিক আত্মহত্যার প্রবণতা-- এই দুইকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছে।'
এনসিআরবি-র তথ্য বলছে, গত এক দশকে ২৪ বছর বয়সিদের জনসংখ্যা কমেছে ১০ লক্ষ। এদিকে ছাত্র আত্মহত্যার সংখ্যা ৬৬৫৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ৪৪! রিপোর্ট অনুসারে, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু এবং মধ্যপ্রদেশকে এমন রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ছাত্রদের আত্মহত্যার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি! সারা দেশের মোট ছাত্র-আত্মহত্যার এক-তৃতীয়াংশ। এই তালিকায় রাজস্থান রয়েছে ১০ নম্বরে, যার মধ্যে বড় সংখ্যক আত্মহত্যার খবর আসে কোটা থেকে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, 'এনসিআরবি-র ডেটা তৈরি হয় এফআইআর-এর উপর ভিত্তি করে। এটা মনে রাখতে হবে, ছাত্র আত্মহত্যার রিপোর্ট সবক্ষেত্রে করাই হয় না। ফলে প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত অনেকটাই বেশি। ২০১৭ সালে পাশ হওয়া মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আইনে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা অপরাধ। এই আইনের বদল হলে রিপোর্ট আরও বেশি হবে। এছাড়াও গ্রামীণ এলাকায় অনেক ক্ষেত্রেই যোগাযোগের অভাবে এসব ঘটনা সামনেই আসে না।'
আইসি-৩ প্রতিষ্ঠাতা গণেশ কোহলি এ বিষয়ে বলেন, 'এই প্রতিবেদনটি আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা যে কতটা জরুরি, তা বোঝা যাচ্ছে। আমাদের ফোকাস অবশ্যই শিক্ষার্থীদের মধ্যে দক্ষতা বাড়িয়ে তোলা, তাদের সামগ্রিক উন্নতি করা। কিন্তু তা করতে গিয়ে যদি প্রতিযোগিতার অন্ধকারে তারা দিশা খুঁজে না পায়, তবে এই সবটাই নিরর্থক।'