
ছবিটি প্রতীকী
শেষ আপডেট: 3 January 2025 09:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে চেন্নাইয়ের আন্না বিশ্বিবিদ্যালয়ের ধর্ষণের ঘটনাটির। সেখানে দিনে-দুপুরে ক্যাম্পাসের মধ্যে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল তামিলনাড়ু। চেন্নাইয়ের পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক শহরে প্রতিবাদে শামিল হয়েছে বিরোধী দল এবং নানা সংগঠন।
পুলিশ ওই মূল অপরাধীকে ঘটনার পরের দিনই গ্রেফতার করে। আরজি করের ঘটনায় অভিযুক্তের মতো চেন্নাইয়ে ধর্ষণের অপরাধে ধৃতও অতীতে একাধিক অপরাধমূলক কাজে যুক্ত ছিল। জেলেও ছিল বহুদিন। এমন দাগি আসামি কী করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢুকে ছাত্রীকে ধর্ষণ করতে পারল সেই প্রশ্ন তাড়া করে বেরাচ্ছে সব মহলকে। ক্যাম্পাসের বেহাল নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক মঞ্চ।
এরই মধ্যে নয়া বিতর্ক দেখা দিয়েছে ধর্ষিতা ছাত্রীর নাম-পরিচয় জানাজানি হয়ে যাওয়ায়। এফআইআরের কপি হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে। এই ঘটনায় আঙুল উঠেছে ভারত সরকারের ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টারের দিকে। তাদের কারিগরি ত্রুটির কারণেই চেন্নাই পুলিশের ওয়েবসাইট থেকে এফআইআরের কপি ছড়িয়ে পড়েছে বলে তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের অভিযোগ। অনেক টালবাহানার পর কেন্দ্রীয় সংস্থাটি তাদের সিস্টেমে ত্রুটির কথা মেনে নিয়েছে। এখনও জবাব মেলেনি, সিস্টেমের ত্রুটির কারণে শুধু ছাত্রীকে ধর্ষণের এফআইআরের কপি কীভাবে প্রকাশ্যে এল।
এই ধরনের আর পাঁচটা ঘটনার মতো তামিলনাড়ুর বিরোধী দলগুলিও সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের আর্জি জানিয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টে মামলা হয়েছে। উচ্চ আদালত অবশ্য আপাতত নয় মহিলা পুলিশ অফিসারের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি করে দিয়েছে। মহিলা অফিসারদের সিট ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
তবে বিতর্ক দেখা দিয়েছে ঘটনার প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিবাদ সভা ঘিরে। এই বিষয়ে এক মামলায় মাদ্রাজ হাই কোর্টও রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ সভায় অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। বিচারপতি পি ভেলুমুরুগান এক মামলায় বলেছেন, ধর্ষণ-সহ নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ, মিডিয়ার কভারেজে মূল সমস্যার সমাধান হয় না। তারা ইস্যুটিকে কাজে লাগায় নিজেদের প্রচারের স্বার্থে। নতুন ইস্যু সামনে এলে তারা আগেরটা ভুলে যায়।
বিচারপতির বক্তব্য, এই ধরনের অপরাধের ঘটনায় শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসনের সব অঙ্গ এবং নাগরিক সমাজকেও আত্মসমীক্ষা করতে হবে। দায় এড়াতে পারে না কোনও রাজনৈতিক দলও। বিচারপতি ভেলুমুরুগানের কথায়, অপরাধ কোথায় হয়েছে, কার উপর সংঘঠিত হয়েছে সে প্রশ্নের চাইতেও গুরুতর হল কেন এমন ঘটনা ঘটতে পারছে। তাঁর কথায়, মহিলারা দুর্বল টার্গেট। এই ধরনের অপরাধের পিছনে লিঙ্গ বৈষম্যও একটি কারণ। মহিলাদের দুর্বল ভাবার মানসিকতা দূর করা দরকার। তার দায় সকলের।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিচারপতি বলেন, ‘নারীর উপর সংঘঠিত যৌন অপরাধের ঘটনায় আমরা সবাই অপরাধী।’