সভাস্থলকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হবে, প্রতিটি ভাগে সর্বোচ্চ ৫০০ জনের দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। এতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করছে পুলিশ (Vijay political rally guidelines)।

বিজয় (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 7 December 2025 01:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কারুরে বিজয়ের জনসভায় পদপিষ্ট (Karur Stampede) হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর প্রথম রাজনৈতিক জনসভা করছে টিভিকে (Tamilaga Vettri Kazhagam)। পুদুচেরিতে হতে চলেছে এই সমাবেশ (Vijay Puducherry Rally)। স্বাভাবিকভাবেই কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না পুলিশ। তাই আগেই একগুচ্ছ শর্ত দেওয়া হল বিজয়দের।
পুদুচেরির পুলিশ জানিয়েছে, টিভিকে-র এই সভায় সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার মানুষ যোগ দিতে পারবেন (Puducherry Police crowd control)। কারা প্রবেশ করতে পারবেন, তা ঠিক করা হবে দলের দেওয়া বিশেষ পাসের মাধ্যমে। খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করবে পুলিশ।
সভাস্থলকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হবে, প্রতিটি ভাগে সর্বোচ্চ ৫০০ জনের দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। এতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলে মনে করছে পুলিশ (Vijay political rally guidelines)। আয়োজকদের জল, শৌচাগার এবং অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা, শিশু এবং বয়স্কদের এই অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
বিজয়ের দল মূলত রোড শো করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু পুদুচেরি পুলিশ তা নাকচ করে দেয় (TVK Puducherry restrictions)। কারণ, শহরের রাস্তা সরু এবং ভিড় সামলানোর ক্ষমতা সীমিত। বিজয়ের জনপ্রিয়তা এত বেশি যে, আশপাশ থেকেও বহু মানুষ ভিড় জমাতে পারেন, এমনই আশঙ্কা ছিল পুলিশের।
অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা বিজয় দক্ষিণ ভারতের তিন রাজ্য- তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং কেরলে বিপুল জনপ্রিয়। তাঁর দল মনে করছে, পুদুচেরি তাদের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।
জনসভার জন্য এই অনুমতি প্রক্রিয়া একেবারেই সহজ ছিল না। কারুরের সেই ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পরপরই তামিলনাড়ু সরকার নতুন নিয়ম তৈরি করে রাজনৈতিক সভা ও র্যালির জন্য। পাশাপাশি এই ঘটনায় সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
তামিলনাড়ু সরকার (Tamil Nadu Govt) কারুরের ঘটনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে টিভিকে দলকেই দায়ী করেছিল। তারা জানায়, দলের আয়োজক ও কর্মীদের একের পর এক সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি এতটা গুরুতর করে দিয়েছিল।
সরকারের হলফনামায় বলা হয়েছে, 'বিজয় সকাল ৮.৪০ মিনিটে চেন্নাই থেকে বিমানে তিরুচিলাপল্লি পৌঁছন। সেখান থেকে তিনি নমাক্কলে একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং পরে কারুরে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের তুলনায় প্রায় সাত ঘণ্টা দেরিতে কারুরে পৌঁছন। সরকারের দাবি, 'ইচ্ছাকৃতভাবেই সভাস্থলে দেরিতে গেছিলেন বিজয়, যাতে আরও বেশি ভিড় বাড়ানো যায়।'
রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, পুলিশ পুরো সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে ও ধৈর্য দেখিয়েছে। বিজয় মঞ্চে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাত ঘণ্টার দেরিতে তাঁর আসার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছয় এবং তার পরপরই ঘটে যায় ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনা।