
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2025 18:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেলঙ্গানার সুড়ঙ্গে (Telangana Tunnel Collapsed) যে জায়গায় শ্রমিকরা আটকে রয়েছেন সেই জায়গাতেই পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া উদ্ধারকাজ কার্যত একই জায়গায় আটকে রয়েছে। শ্রীশৈলম বাঁধের (Srisailam Left Bank Canal) সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৮ জন শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে পারছে না উদ্ধারকারী দলের কেউ। শ্রমিকরা যে বেঁচে রয়েছেন এই আশাও আর কেউ করছেন না।
আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুড়ঙ্গ থেকে বেরনো কাদা মাটি, জল। তার জেরে বেশি ভিতরে এগোতেই পারছেন না উদ্ধারকারীরা। একাধিক দল তৈরি করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন ব়্যাট মাইনার্সরা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এইভাবে জল-কাদা টপকে ভিতরে জোর করে ঢুকতে চাইলে প্রাণ সংশয় থাকবে উদ্ধারকারী দলের সদস্যদেরই।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের শেষ ধাপ পেরোনো সম্ভব হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যেতে পারলেও শ্রমিকদের কারও যোগাযোগ করতে পারেনি উদ্ধারকারী দল। তারা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের শেষ ৪০-৪৫ মিটার পুরোপুরি জল-কাদায় ভরে রয়েছে। তা সরানোর কাজ শুরু হলেও এখনও জায়গা ফাঁকা করা সম্ভব হয়নি। এই মুহূর্তে এন্ডোস্কোপিক ক্যামেরার মাধ্যমে সুড়ঙ্গের ভিতর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে রোবোটিক ক্যামেরা।
যে আটজন ভিতরে আটকে পড়েছেন তাঁদের বেঁচে থাকার আশা অত্যন্ত ক্ষীণ। কারণ শ্রমিকরা সুড়ঙ্গের যে অংশে আটকে পড়েছেন সেই অংশ অত্যন্ত গভীর এবং জটিল। তবে সামান্য আশার আলো থাকলেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাবেন তাঁরা বলে আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
শ্রমিকদের উদ্ধার করতে ব়্যাটহোল মাইনার্সদের ভূমিকাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের জন্য এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত দেশী, প্রাচীন ও অবৈজ্ঞানিক। খনির মধ্যে ঢোকা ও বেরনোর জন্য শ্রমিকরা 'ইঁদুরের গর্ত' খোঁড়েন। ইঁদুর যেমন মাটির নীচে যাতায়াত করার জন্য ছোট ছোট গর্ত খোঁড়ে, তেমনই খনি থেকে কাঁচামাল তোলার জন্য এমন গর্ত করেন শ্রমিকরা। সাধারণত ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে শ্রমিকেরা খনিতে নামেন। সরু গর্ত খুঁড়তে খুঁড়তে খুব অল্প জায়গার মধ্য দিয়ে শ্রমিকেরা খনির মধ্যে প্রবেশ করেন। কিন্তু জল-কাদার কারণে তাঁদেরও কাজ করতে প্রবল সমস্যা হচ্ছে।