
সুপ্রিম কোর্ট
শেষ আপডেট: 15 January 2025 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি-র ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলার শুনানির পরবর্তী দিন ঘোষণা করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ২৭ জানুয়ারি ফের শুনানি হতে চলেছে এই মামলার। অর্থাৎ বুধবারও ঝুলে রইল চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ। যোগ্য এবং অযোগ্য কারা তা এদিনও আলাদা করা গেল না।
সুপ্রিম কোর্টে এদিন গ্রুপ সি চাকরিপ্রাপকদের আইনজীবী বৈধ এবং অবৈধ চাকরিপ্রাপকদের আলাদা করতে তদন্তের দাবি করেন। তাঁর আর্জি, অন্যের বেনিয়মের জন্য যেন সব যোগ্য চাকরিপ্রাপকরা বঞ্চিত না হন। অন্যদিকে, নবম-দশম ও গ্রুপ ডি চাকরিপ্রাপকদের আইনজীবী মুকুল রোহতগির বক্তব্য, নাইসার প্রাক্তন কর্মীর কাছ থেকে পাওয়া তিনটি হার্ড ডিস্কের বৈধতা কতটা তা জানা দরকার।
মুকুল রোহতগি আরও বলেন, আসল ওএমআর সিট নেই, স্ক্যান করা কপিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে ওই তিনটি হার্ড ডিস্কের ওপর কী ভাবে ভরসা করা যায় সেই প্রশ্ন থাকছে। হার্ড ডিস্ক বিকৃত করা হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করেন তিনি।
বঞ্চিত প্রার্থীদের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী বলেন, যে ধরনের অনিয়ম হয়েছে তা বাদ রেখে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতিও বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য শুনেছেন। অনুরোধ করা হয়েছে, প্যানেল রিকাস্ট করে নিয়োগ করা হোক। পরবর্তী শুনানির পর বোঝা যাবে কী নির্দেশ আসতে পারে। এখন তারই অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল। শুনানিতে সিবিআই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিহারারা। তাঁদের আইনজীবীর দাবি, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সঠিক তদন্ত করছে না। দুর্নীতি হলেও তার সঠিক অনুসন্ধান হয়নি।
তিনি এও দাবি করেন, সঠিক তদন্ত ছাড়া চাকরি বাতিল হয়েছে। এটা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সিবিআইয়ের গা-ছাড়া মনোভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। তাই কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তার পর্যালোচনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ এপ্রিল এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ ওই রায় দিয়েছিল। তার ফলে ২৫,৭৫৩ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়। হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে রাজ্য। পরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও চাকরিহারাদের একাংশও শীর্ষ আদালতে মামলা করে।