পরীক্ষা পে চর্চায় সদগুরু জাগ্গি বাসুদেব
শেষ আপডেট: 15 February 2025 16:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরীক্ষাকে কঠিন ভাবলে চলবে না। শিক্ষার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পড়ুয়ারা উপযুক্ত কি না তা যাচাই করার একটি মাধ্যম পরীক্ষা। পরীক্ষা পে চর্চা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এমনি পাঠ পড়ালেন আধ্যাত্মিক নেতা এবং ইশা ফাউন্ডেশনের প্রধান জাগ্গি বাসুদেব। শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন তোমাদের স্মার্ট ফোনের চেয়েও স্মার্ট হতে হবে।
গত সোমবার থেকে 'পরীক্ষা পে চর্চা' (Pariksha Pe Charcha 2025) শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেদিন দিল্লির একটি নার্সারিতে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। কীভাবে নিজেদের পরীক্ষার চাপ থেকে একেবারে ফ্রি রাখা যায়, দারুণ নম্বর পাওয়া যায় সে সংক্রান্ত কিছু টিপস দিতে শোনা যায় মোদীকে।
নির্ধারিত সময় মেনে সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী 'পরীক্ষা পে চর্চা' নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। এটি অষ্টম সংস্করণ। জীবনের প্রথম বোর্ড পরীক্ষার আগে দশম শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য প্রতি বছর ‘পরীক্ষা পে চর্চা’ নামক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পড়ুয়াদের মনের জোর বাড়াতেই এই উদ্যোগ। তবে চলতি বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা। সেই মতো এদিন সকালে পড়ুয়াদের টিপস দিতে দেখা যায় সদগুরুকে।
তিনি বলেন, "যদি একইসঙ্গে ঘাস আর মোটরসাইকেলের দিকে তাকান, তাহলে আপনার ভাবা উচিত এর পদার্থবিদ্যা, গণিত এবং রসায়ন কী। সঠিক শিক্ষাই বিষয়গুলি বুঝতে সাহায্য করে এবং জীবনের দিকে এগিয়ে দেয়। এর জন্য বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন।
তবে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফোনের প্রতি আসক্তি সম্পর্কে এক ছাত্রের প্রশ্নের উত্তরে সদগুরু বলেন, একজন ব্যক্তির উচিত স্মার্ট ফোন কীভাবে ব্যবহার করবেন তা ঠিক করা। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা বলে কিছু নেই, কারণ মূল্যবান কিছু করার জন্য অন্যরকম চিন্তা করতে হবে।
অন্যদিকে মনোসংযোগ বাড়াতে পড়ুয়াদের ধ্যানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, শরীর ভালভাবে অনুশীলন করলে আরও ভালোভাবে কাজ করা যায়।তাহলে মানসিক ক্ষমতা বাড়াতে কেন সেটা আমরা করতে পারি না?
সদগুরু মানুষের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তুলনা করতে না বলেন। তিনি জানান, আমি কি এই ব্যক্তির মতো বুদ্ধিমান নাকি ওই ব্যক্তির মতো? এমন ভাবার কিছু নেই। এটা একটা প্রহসন যা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। সবাই সবকিছু করতে পারেন। প্রত্যেকে মানুষের মধ্যে সেই ক্ষ্মতা রয়েছে। কে কখন কী করে দেবেন বলা মুশকিল।
সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেয়েছেন জাগ্গি বাসুদেব। গত বছরের অক্টোবরে তাঁর আশ্রমের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে মামলার নিষ্পত্তি করেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চ। সদগুরুর আশ্রম ইশা ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যাপক। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর দুই কন্যাকে ‘ওই আশ্রমে থেকে যাওয়ার জন্য মগজধোলাই’ করা হয়েছিল। এমনকি পরিবারের সঙ্গেও দুই কন্যাকে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। তবে বর্তমানে নিজের ডেরাতেই ফিরেছেন সদগুরু।