
শেষ আপডেট: 2 March 2024 14:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত মাসে নীতীশ কুমার বিহারে মহাজোট ছেড়ে বিজেপির হাত ধরার তিনদিন আগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কর্পূরী ঠাকুরকে ‘মরণোত্তর ভারতরত্ন’ ঘোষণা করে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কর্পূরীকে তাঁর রাজনৈতিক গুরু মানেন নীতীশ। তাই-ই শুধু নয়, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ভারতরত্ন ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকও একই দাবি জানিয়ে আসছেন প্রয়াত বিজু পট্টনায়েক সম্পর্কে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ওড়িশার রূপকার বলা হয়ে থাকে এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। জনতা দল থেকে বেরিয়ে নবীন বাবার নামে দল গড়েন। বিজু জনতা দল সংসদে এবং সংসদে বাইরে বেশিরভাগ ইস্যুতে মোদী সরকারের পাশে থাকলেও নবীনের এই প্রত্যাশা পূরণ করেনি কেন্দ্র। তিন বছর আগে বিজুর জন্মশতবর্ষ বিজেপিও গুরুত্ব দিয়ে পালন করে। কিন্তু মোদী সরকার ভারতরত্ন ঘোষণার ব্যাপারে রা কাড়েনি।
জানা যাচ্ছে, লোকসভা ভোট যখন দুয়ারে কড়া নাড়ছে তখন বিজুকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার বিনিময়ে ওড়িশায় বিজেপি এবং বিজেডি বা বিজু জনতা দলের মধ্যে আসন সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চারশো আসন নিয়ে সংসদে ফিরতে চাওয়ার স্বপ্নে বিভোর বিজেপি এখনও রাজ্যে রাজ্যে শরিকের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলে ভাঙন ধরানোর প্রচেষ্টার পিছনেও সেই লক্ষ্যপূরণই কাজ করছে। তবে বিজুকে সামনে রেখে দুই দলের আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে কোনও দলই প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি।
বিজু ছিলেন ওড়িশার জনপ্রিয়তম নেতা। বাংলায় বিধানচন্দ্র রায়ের মতো তিনিও রাজ্যের রূপকারের মর্যাদা অর্জন করেন। দীর্ঘদেহী বিজু ছিলেন দক্ষ পাইলট এবং কলিঙ্গ এয়ারলাইন্সের কর্ণধার। ১৯৪৭-এ তিনি প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অনুরোধে বিমান নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সুতান জাহরির এবং ভাইস-প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাত্তাকে জাভা থেকে ডাচদের কবল থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। ভারতের প্রয়াত নেতার সেই অবদানকে স্মরণে রেখে ইন্দোনেশিয়া সরকারও বর্ষব্যাপী বিজুর শতবর্ষ পালন করে।
সেই বিজুকে মরণোত্তর ভারতরত্ন ঘোষণার দাবিতে একাধিকবার গলা মিলিয়েছে বিজেপিও। এখন লোকসভা ভোটের মুখে ফের জল্পনায় এসেছে প্রয়াত নেতাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার বিষয়টি।
রাজনৈতির সওদা করাতে রাষ্ট্রীয় সম্মানবিলি অবশ্য নতুন নয়। সদ্যই প্রাক্তন কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী নরসিংহ রাও’কে মরণোত্তর ভারররত্ন ঘোষণা করছে মোদী সরকার। তিন বছর আগে এই নেতার জন্মশতবর্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। এখন তাঁকে মরণোত্তর সম্মান দেওয়ার পিছনে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানায় বিজেপির ভোটের অঙ্ক কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাও অভিভক্ত অন্ধ্র্রের মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। ওড়িশার মতো অন্ধ্রপ্রদেশেও লোকসভার সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনেও ভোট নেওয়া হবে।
প্রয়াত বিজ্ঞানী এমএস স্বামীনাথনকে মরণোত্তর ভারতরত্ন ঘোষণার পিছনে তেমনই কাজ করেছে তামিলনাড়ুর মন জয়, এমনটাই মনে করছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা। অতীতে তামিলনাড়ুর বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেস নেতা কে কামরাজকে ভারতরত্ন ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তখন ইন্দিরা গান্ধী। বলা হয়, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের ভাগ্য ফেরাতে ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইন্দিরা। একই উদ্দেশে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা চিত্রতারকা এমজি রামচন্দ্রনকে ভারতরত্ন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী।