পুলিশের সন্দেহ জেগেছে একটা ছোট অথচ অদ্ভুত বিষয় ঘিরে। তিন দিন মেঘালয়ে কাটিয়েও সোনম ও রাজা একটি ছবিও তোলেননি।

সোনম-রাজা
শেষ আপডেট: 10 June 2025 18:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজা রঘুবংশীকে হত্যার ছক কষেছিলেন প্রেমিকের সঙ্গে। আত্মসমর্পণের পর সেকথা স্বীকার করেন ইন্দোরের সোনম। এই খুনের সূত্র খুঁজতে এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে সোনমের ফোন। আর সেখান থেকেই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশের সন্দেহ জেগেছে একটা ছোট অথচ অদ্ভুত বিষয় ঘিরে। তিন দিন মেঘালয়ে কাটিয়েও সোনম ও রাজা একটি ছবিও তোলেননি। না ফোনে, না সোশ্যাল মিডিয়ায়। সদ্য বিবাহিত দম্পতির এমন আচরণে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের মধ্যে। সন্দেহের শুরু সেখান থেকেই।
কিন্তু তার থেকেও চমকপ্রদ তথ্য হল, হত্যাকাণ্ডের ঠিক পরই রাজার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করেন সোনম। সেখানে লেখা ছিল, 'সাত জন্মের সঙ্গী।' এখনই স্পষ্ট নয়, ওই পোস্টে তাঁদের বিয়ের কোনও ছবি ছিল কি না। তবে এর থেকে পুলিশ বুঝতে পারে, খুনের পর পুলিশের নজর মূল বিষয় থেকে সরাতে সোশ্যাল মিডিয়াও ব্যবহার করেছিলেন সোনম।
সোনম ও রাজা বিয়ে করেছিলেন ১১ মে। তারপর ২০ মে তাঁরা মধুচন্দ্রিমার জন্য মেঘালয়ে পাড়ি দেন। পাহাড় ঘেরা সে রাজ্যে তাঁরা তিন দিন ঘুরে বেড়ান। তারপরই নিখোঁজ হয়ে যান । পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করতে না পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হলে শিরোনামে আসে গোটা বিষয়টি।
শুরু হয়েছিল নিখোঁজ তদন্ত হিসেবে, পরে রীতিমতো খুনের তদন্তে পরিণত হয়। ২ জুন, রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয় একটি গভীর খাদ থেকে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যায় একটি ধারালো অস্ত্রও। ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা যায়, রাজার মাথায় দু’বার আঘাত করা হয়েছিল।
পুলিশ জানাচ্ছে, এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন সোনম এবং তাঁর প্রেমিক রাজ কুশওয়া। রাজ নিজে না গেলেও তিন জন বন্ধুকে পাঠিয়েছিলেন ‘খুনে’র জন্য। তারা কেউই রাজার পরিচিত ছিলেন না।
২৩ মে, খুনের দিন। সোনম রাজার সঙ্গে একটি পাহাড়ি জায়গায় যান, ছবি তোলার নাম করে। পেছন থেকে তাঁদের অনুসরণ করেন তিন খুনি। তাঁরা প্রথমে রাজার সঙ্গে হিন্দিতে কথাও বলেন। কিছুক্ষণ পর সোনম ‘ক্লান্ত’ বলে নিজেকে একটু পেছনে সরিয়ে নেন। তখন পাঁচ জন একেবারে নির্জন জায়গায় পৌঁছে যান, তখন সোনম চিৎকার করে বলে ওঠেন, 'মেরে দাও।' এরপরই হয় খুন।
এই গোটা ঘটনা ঘটেছে সোনমের চোখের সামনে হয়েছে পবলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা।
খুনের পর চার জন অভিযুক্ত একসঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১১ কিমি দূরে গিয়ে জড়ো হন। সেখান থেকে সোনম চলে যান গুয়াহাটি, তারপর ট্রেনে করে ইন্দোর। ২৫ মে পৌঁছে যান প্রেমিক রাজ কুশওয়ার কাছে, যিনি আগেই সেখানে একটি ভাড়া ঘর ঠিক করে রেখেছিলেন। যদিও রাজ নিজে ছিলেন অন্য একটি হোটেলে।
কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ একটি গাড়ির ব্যবস্থা করে দেন, তাতে করে সোনম যান উত্তরপ্রদেশে। দু’জনে সব সময় ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন। ৮ জুন, শনিবার রাতে গাজিপুরের এক ধাবায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন ২৪ বছরের সোনম। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় গাজিপুর মেডিক্যাল কলেজে। সেখানেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের কাছে। এরপর হেফাজতে নেওয়া হয়।
সোনমকে হেফাজতে নেওয়ার পরই মেঘালয় পুলিশের তরফে একটি ২০ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল তৈরি করা হয়। ‘অপারেশন হানিমুন’ নাম দেওয়া হয় তার। ৭ জুন রাতে একাধিক জায়গায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় বাকি তিন খুনিকে।
তদন্ত এখনও চলছে। আর বার বার উঠে আসছে এক প্রশ্ন — ‘সাত জন্মের সঙ্গী’কথা বলে যে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল, তা এত দ্রুত কী করে এমন ভয়ানক পরিণতির দিকে এগোল?