
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাবভাব দেখলে মনে হবে কোনও রহিস আদমির বেটা। ২৬ বছরের বিকাশ নামদেব নামে এই যুবক যা পছন্দ করে, তাই কিনে ফেলে। যা ইচ্ছে করে, তাই খায়। যেমন যদি কলকাতার রসগোল্লা খেতে ইচ্ছে হয়, তাহলে সটান বিমান ধরে চলে আসে কল্লোলিনী তিলোত্তমায়। তারপর তার যদি মন চায় স্কচ হুইস্কি খাবে, তাহলে সে কোনও দোকান থেকে ইমপোর্টেড স্কচ কেনে না বা পানশালায় বসে খায় না। আবার বিমান ধরে চলে যায় গোয়ার সমুদ্র সৈকতে।
বিকাশ বহুদিন ধরেই কলকাতার রসগোল্লার নাম শুনেছেন। খাওয়ার খুব শখ ছিল। তাই দিল্লিতে কলকাতার রসগোল্লা পাওয়া গেলেও তাতে খুশি ছিল না সে। তাই বিমানের টিকিট কেটে সোজা রসগোল্লার নিজের শহর কলকাতা। রসগোল্লা খেয়ে সে রাতেই বিমানে ফিরে যায় সে। এমনই হয়েছিল অথেনটিক স্কচ খাওয়ার সময়। গোয়ার বিচে বসে পা তুলে চুমুক দিয়েছিল স্কচের গ্লাসে। স্কচ পান শেষেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমানে ফিরে আসা।
না, বিকাশ নামদেব কোনও ধনী ব্যবসায়ী নয়, কোনও কোটিপতি বাপের ছেলেও নয়। তার এই শৌখিন-বিলাসবহুল জীবন কাটানোর পিছনে রয়েছে মস্ত এক গল্প। কিন্তু, বিকাশের এই মর্জিমাফিক জীবনের ছন্দপতন ঘটল হঠাৎই। না কোনও আয়কর, ইডির হাতে নয়। দ্বাদশ শ্রেণির স্কুলছুট বিকাশকে গ্রেফতার করেছে গুজরাতের বরোদা পুলিশ। কারণ সে একজন দাগি চোর, যে তার এই বিলাসবহুল জীবন কাটাত চলন্ত ট্রেনে চুরি করে।
নামদেবের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে। তাকে বরোদার অপরাধ দমন শাখার পুলিশ স্টেশন থেকে গ্রেফতার করে। বিকাশ নামদেবের ব্যাগ তল্লাশি করে তা থেকে ৩৪ লক্ষ টাকার সোনার গয়না পাওয়া গিয়েছে। বিকাশ এতটাই শৌখিন ছিল যে, সে সবসময় ব্রান্ডেড জামা-প্যান্ট, জুতো, আংটি-চেন সহ দামি দামি সামগ্রী পরত ও ব্যবহার করত। গত তিন মাস ধরে বরোদা ও সুরাতের মাঝে মহিলাদের গয়না চুরিই ছিল তার পেশা।
পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশে আগে নামদেব গাড়ি চুরি করত। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে নজরে পড়ে যাওয়ায় সে গুজরাতে এসে নতুন ধান্দায় নেমে পড়ে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দামি জামাকাপড় পরে সে টু-এসি অথবা থ্রি-এসি কামরার টিকিট কেটে ভোর ৩টে থেকে ৪টে নাগাদ ট্রেনে উঠত। তার শিকার ছিলেন বেশিরভাগ গলায়, হাতে গয়না পরে থাকা ঘুমন্ত মহিলা যাত্রীরা।
অলঙ্কার চুরি করে সে বরোদা ও সুরাতে নেমে যেত। পুলিশ যাতে তাকে চিনতে না পারে তার জন্য ভাল আমদানির পর সে বরোদা ও আমদাবাদের কোনও হোটেলে ঘর বুক করে ঘাপটি মেরে থাকত। সে ট্রেনের টিকিট কাটা এবং হোটেলে থাকার জন্য চুরি করা আধার কার্ড ব্যবহার করত। যদি কোনও ট্রেন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হতো তাহলে তাঁদের বস্ত্র ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিত বিকাশ। তার পোশাক ও চাকচিক্য দেখে কেউ সন্দেহ করত না।
গুজরাত ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও রাজস্থানে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর ঘর ছাড়ে বিকাশ। তার এরকম স্বভাবের জন্য বাড়ির লোক কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না।