
প্রয়াগরাজের চলতি মহাকুম্ভের আসর জমজমাট
শেষ আপডেট: 14 January 2025 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ মাথায় ফসল বুনেছেন। তো কোনও জটাধারীর জটায় লাগানো ৪৫ কেজির রুদ্রাক্ষ। কেউ সদাসর্বদা ঘোরেন ২০ কেজির চাবি হাতে। কারও শখ বরফগলা জলে স্নান। তো কেউ ৩২ বছর ধরে স্নানই করেননি। সবে মিলে প্রয়াগরাজের চলতি মহাকুম্ভের আসর যেন জমজমাট এক মহামিলনের সার্কাস! স্নানের সঙ্গে তাঁদের দেখার জন্যও ভক্তরা প্রবল উৎসাহে ভিড় করছেন আখড়াগুলোতে।
রুদ্রাক্ষ বাবা- মহাকুম্ভে এবারের সবথেকে আকর্ষণ রুদ্রাক্ষ বাবা। যাঁর আশ্রমিক নাম গীতানন্দ মহারাজ বা বাবা দিগম্বর অজয় গিরি। রুদ্রাক্ষ বাবার বিশেষত্ব হল, তাঁর জটা থেকে সারা শরীরে প্রায় ৪৫ কেজি ওজনের দেড় থেকে দুই লক্ষের বেশি রুদ্রাক্ষ রয়েছে। নিরঞ্জনী পঞ্চায়েতি আখড়ার এই সাধু প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, রুদ্রাক্ষের জন্ম শিবের চোখের জল থেকে। শিবপুরাণে রয়েছে যে যিনি শরীরে ১১,০০০ রুদ্রাক্ষ ধারণ করেন, তাঁকে ভগবান শিবের রুদ্র অবতার বলে মনে করা হয়। মূলত পাঞ্জাবের বাসিন্দা এই সাধু ১২-১৩ বছর বয়সে সন্ন্যাস নিয়েছেন।
আনাজওয়ালি বাবা- আসল নাম অমরজিৎ। যিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে হঠযোগের সাহায্যে মাথার উপর গম ও ছোলা চাষ করে আসছেন।
চাবি বাবা- আসল নাম হরিশচন্দ্র বিশ্বকর্মা। যাঁর লক্ষ্য সমাজের সমস্ত ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি, অসৎ দূর করে ন্যায় ও জ্ঞানের তালা খুলে দেওয়া। তাই তিনি সঙ্গে করে ২০ কেজি ওজনের একাধিক চাবি নিয়ে ঘোরেন। তাঁর বিশ্বাস এই চাবি মানুষের মনের বন্ধ দরজা খুলে দেবে। স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত চাবি বাবা মানুষকে আধ্যাত্মিক মার্গদর্শনের চাবি নিয়ে ঘুরছেন মহাকুম্ভের পথে পথে। তাঁর দাবি, এটা কেবলমাত্র লোহার টুকরো নয়। জীবন ও সত্যে প্রতীক। মানুষের অন্তরে আবদ্ধ অন্ধকার ও অহঙ্কারের দরজা খুলে দিয়ে মুক্তজ্ঞানের আলো দেখায়।
উত্তরপ্রদেশের রায়বরেলির বাসিন্দা চাবি বাবা ১৬ বছর বয়সে ঘর ছেড়ে তাঁর কবিরপন্থী আধ্যাত্মিক জীবন শুরু করেছিলেন একটি সাইকেলে বসে। তখন তাঁকে শিষ্যরা কবির বাবা নামে ডাকতেন। এখন তাঁর ভক্তরা তাঁকে একটি রথ তৈরি করে দিয়েছেন। তবে রথে তিনি না বসে সেটা নিয়ে ঘুরে বেড়ান। এই রথ কোনও পশুতে টানে না বা ইঞ্জিনও নেই। ৫০ বছর বয়সি সাধু বাহুবলে রথ টেনে নিয়ে বেড়ান।
বালক বাবা- গোপাল গিরি নামে ৭-৮ বছরের এক নাবালক সাধুকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন অগুনতি মানুষ। বহু বয়োবৃদ্ধ সাধুবাবার পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করছেন।
বরফ বাবা- নাগা সাধু প্রমোদ গিরি মহারাজের বিশেষত্ব হল তিনি সবসময় বরফগলা জলে স্নান করেন। রোজ সকালে ৬১টি কলস ভর্তি বরফগলা জলে স্নান সেরে ধুনি (হোমকুণ্ড) জ্বেলে দীর্ঘ ধ্যানে বসেন। ৯ বছর ধরে তাঁর এই হঠযোগ মানবকল্যাণ ও মানবতা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে করে চলেছেন।
ছোটু দাদু বাবা- আসনে বামন বাবা। অসমের কামাখ্যা থেকে এসেছেন গঙ্গাপুরী মহারাজ। ৫৭ বছর বয়সি এই সাধু জুনা আখড়ার সন্ন্যাসী। উচ্চতা ৩ ফুট ৮ ইঞ্চি। তাঁর দাবি, তিনি ৩২ বছর ধরে স্নান করেননি। তাঁর স্নান না করার কারণ হল ছোটু বাবার গঙ্গাস্নানের ইচ্ছে এখনও পূরণ হয়নি। ৯ বছর বয়স থেকে মাধুকরী বেছে নিয়েছেন এই বাবা। অঘোরবাদী সাধু শ্মশানে বসে ধ্যান করেন।
রাবড়ি বাবা- মহন্ত দেবগিরি তাঁর আসল নাম। পঞ্চায়েতি আখড়া মহানির্বাণীর সন্ন্যাসী। তাঁর কাজ হল বিশালাকার একটি কড়াইতে তিনি সারাক্ষণ দুধ ফুটিয়ে রাবড়ি তৈরি করেন। যা তিনি ভক্তদের মধ্যে সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করেন। মহাকালীর আশীর্বাদে ২০১৯ সাল থেকে তিনি এই কাজ করে চলেছেন।
চা-ওয়ালে বাবা- উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে এক সাধারণ চাওয়ালা থেকে সাধু হয়েছেন চাওয়ালা বাবা। দীনেশস্বরূপ ব্রহ্মচারী নামে এই মৌনীবাবা গত ৪০ বছর ধরে কোনও কথা বলেননি বা খাবার খাননি। দিনে ১০ কাপ চা খেয়ে তিনি জীবন ধারণ করেন। এমনকী সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের হোয়াটস অ্যাপ মারফত ৪০ বছর ধরে পড়াচ্ছেন।