
রবি অত্রি
শেষ আপডেট: 22 June 2024 20:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের অন্যতম মূল চক্রী রবি অত্রিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গ্রেটার নয়ডা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। পুলিশ জানতে পেরেছে, এই গোটা কাণ্ডের পিছনে রয়েছে 'সলভার গ্যাং', যার মাথা এই রবি অত্রি। তার গ্রেফতারির পর নিট কাণ্ডে মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রকাশ্যে আসার পরই ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর ঝাড়খণ্ড থেকে আরও ৫ জন ধরা পড়ে। এবার অন্যতম মূল চক্রী পুলিশের জালে। এর আগে এই ঘটনার 'মাস্টারমাইন্ড' সঞ্জীব সিং-এর কথা জানা গেছিল। পুলিশের কাছে খবর ছিল, তিনি এবং তার ছেলে মিলে 'মুখিয়া সলভার গ্যাং' চালান, যা বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে। সঞ্জীবের ছেলে যিনি নিজে ডাক্তার, তিনিও বর্তমানে জেলবন্দি।
রবি অত্রির ঠিক কী ভূমিকা? পুলিশ সূত্রে খবর, ২০১২ সালে মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য তাঁকে একবার গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। রবি নিজেও নিট পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কোটা গেছিলেন। কিন্তু তারপরই তিনি 'সলভার গ্যাং'-এর সংস্পর্শে আসেন। টাকার লোভে নিজে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে অন্যের হয়ে পরীক্ষায় বসতেন। ধীরে ধীরে প্রশ্নফাঁসের কাজে হাত পাকাতে শুরু করেছিলেন সে সময় থেকেই।
প্রসঙ্গত, নিট-ইউজি ২০২৪ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্কের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে প্রথম চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্তকারী স্পেশ্যাল টাস্কফোর্স। ৯০০ পাতার চার্জশিটে ১৮ জন অভিযুক্তের নাম রয়েছে। যাঁদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চার্জশিটেও মূল পান্ডা হিসেবে নাম আছে রবির।
আগে যারা এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিল ৬ জন মিডলম্যান, ৪ জন পড়ুয়া এবং ৩ জন অভিভাবক। ধৃত এক পড়ুয়াই পুলিশি জেরায় ইতিমধ্যে শিকার করেছে যে, ৩৫-৪০ লক্ষ টাকায় এই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে নিটের প্রশ্ন প্রথমবার ফাঁস হয়েছিল হাজারিবাগের একটি প্রস্তুতি সেন্টার থেকে। সেখান থেকেই অন্যান্যদের হাত ধরে তা বাকি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
নিট বিতর্কের মধ্যেই অনিয়ম ঠেকাতে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র। নিট, নেট-সহ যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে এই কমিটি। একই সঙ্গে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির যাবতীয় কার্যক্রম এবং কাজের পদ্ধতি খতিয়ে দেখার দায়িত্বও তাঁদের ওপর দেওয়া হয়েছে। এই কমিটির থেকে বিশেষ রিপোর্ট চেয়েছে কেন্দ্র, যা আগামী ২ মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে তাঁদের।