
শেষ আপডেট: 4 April 2024 15:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের সৈনিক স্কুলগুলিকে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এমনই অভিযোগ করছে সিপিএম। যদিও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং আরএসএস ওই ব্যাপারে নীরব। তারা অভিযোগের সত্যাসত্য নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
সৈনিক স্কুল প্রথম থেকেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে থাকা সৈনিক স্কুল সোসাইটি পরিচালনা করে। বাংলায় একমাত্র সৈনিক স্কুলটি আছে পুরুলিয়ায়। ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাদেমি বা এনডিএ এবং ন্যাভাল অ্যাকাদেমি বা এনএ-তে ভর্তির জন্য সৈনিক স্কুলে প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গেই সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। প্রশিক্ষণ দেন পদাতিক ও নৌ সেনার অফিসারেরা।
স্বভাবতই এই স্কুলে ভর্তির জন্য কঠোর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। দেশে মোট ৩৩টি সৈনিক স্কুল আছে। ক্লাস এইট পাশ ছেলেমেয়েরা এতে ভর্তি হতে পারে। প্রতিরক্ষা দফতর সূত্রের খবর, নরেন্দ্র মোদী সরকার সৈনিক স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ১০০টি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরমধ্যে প্রথমে ২১টি স্কুল খোলা হবে। সেগুলি বেসরকারি সংস্থা, এনজিও-ইত্যাদির সঙ্গে যৌথ উদ্যোহে পরিচালিত হবে।
সিপিএম পলিটব্যুরো বিবৃতিতে বলেছে, সৈনিক স্কুল বেসরকারি সংস্থার হাতে যাওয়ার অর্থ সরকার টাকায় পরিচালিত সংস্থার বেসরকারিকরণ। সেই সঙ্গে আরএসএস ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের হাতে এই স্কুল তুলে দেওয়ার অর্থ সেনায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভাবধারা ছড়িয়ে দেওয়া। এইভাবে সেনা বাহিনী আরএসএসের ক্যাডারে ভরে যাবে। সেনা বাহিনীর শিক্ষা ব্যবস্থাকে গৈরিকীকরণের এই চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ করেছে সিপিএম।
সরকারি সিদ্ধান্ত বদলের দাবি জানিয়ে সিপিএম আরও বলেছে, সেনা স্কুলে দেশপ্রেম ও ধর্মনিরপেক্ষতাকেই সবচেয়ে প্রাধান্য দেওয়া দরকার। সেনার ধর্মান্ধতা মুক্ত রাখা জরুরি।