.webp)
স্মৃতি ইরানি ও রাহুল গান্ধী
শেষ আপডেট: 30 August 2024 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড নায়িকা কঙ্গনা রানাওয়াত যখন রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেছেন তখন সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল একদা জনপ্রিয় টেলি-অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির মুখে। অমেঠির প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেত্রী স্মৃতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘রাহুল গান্ধীকে ছেলেমানুষ ভাবলে আমরা ভুল করব। তিনি যথেষ্ট পরিপক্ক নেতা, দক্ষ রাজনীতিক। সময়ের কথা বিবেচনায় রেখে তিনি রাজনীতির বার্তা তুলে ধরছেন। এমনকী তাঁর পোশাকও রাজনীতিরই অঙ্গ।’
বিজেপি নেত্রী স্মৃতি গত লোকসভা নির্বাচনে অমেঠিতে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা কিশোরী লাল শর্মার কাছে হেরে গিয়েছেন। ২০১৯-এ অমেঠিতে তাঁর কাছেই হারতে হয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে। পরের পাঁচ বছর অমেঠির সাংসদ স্মৃতি নানা অবকাশে রাহুল গান্ধীকে রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। এমনকী ছেলেমানুষ বলতেও ছাড়েননি ২০০৪ থেকে সাংসদ রাহুলকে। একটা সময় রাজনীতিতে নিত্যদিনের চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল রাহুলকে নিয়ে স্মৃতির আক্রমণাত্মক মন্তব্য। অনেক সময়ই তা বিতর্কের জন্ম দেয়।
সেই রাহুল গান্ধী সম্পর্কে স্মৃতি বলেছেন, ‘ওঁকে আমরা বুঝতে ভুল করেছি। রাহুলকে মোটেই খাটো চোখে দেখা উচিত হবে না। উনি ঠাণ্ডা মাথায় নিজের রাজনীতি নির্মাণ করছেন।’ প্রসঙ্গত, রাহুলকে ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ থেকে মুক্ত নন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরাও। মোদী বিরোধী দলনেতা রাহুলকে জনসভায় কংগ্রেসের ‘বাদশা’, শাহেনশাহ’ বলে আক্রমণ করেছেন। অন্যদিতে, তাচ্ছিল্যভরে অমিত শাহ বলে থাকেন ‘রাহুল বাবা।’
রাহুল অবশ্য কদাচিৎ ব্যক্তিগত আক্রমণের জবাব দেন। বরং স্মৃতি অমেঠিতে এবার হেরে যাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে আক্রমণের মুখে পড়লে রাহুল কংগ্রেস কর্মীদের বলেছেন, এসব করা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে আক্রমণে ইতি পড়ে।
অমেঠিতে পরাজিত স্মৃতির সংসদে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা বিজেপি এখনও করেনি। রাজ্যসভার ১২টি আসনের নয়টিতে বিজেপি জিতেছে। স্মৃতিকে টিকিট দেয়নি দল। দলের উপর রাগ, অভিমান থেকে স্মৃতি প্রতিপক্ষ রাহুলের প্রশংসা করেছেন কিনা সেই বিষয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
স্মৃতি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, রাহুল গান্ধী বুঝেছেন তাঁর মন্দির সফর, নরম হিন্দুত্বের পথে চলা সফল হয়নি। তিনি তাই কাস্ট সেন্সাস নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছেন। তাঁর এই দাবিকে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না। রাজনৈতিক মোকাবিলা দরকার। কারণ তিনি ভারতের তরুণ ও যুব সমাজের মন ছুঁতে চাইছেন। স্মৃতির কথায়, রাহুলের সাদা টি-শার্ট পরাও তরুণ ও যুবাদের মন ছোঁয়ার চেষ্টা।