Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘লালা প্যাড’ ও ১০ টাকার নোটের কারসাজি! কয়লা পাচারের অভিনব কৌশলে পর্দাফাঁস ইডিরটাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান, কেন তাঁকে বাছল খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী?West Bengal Election 2026 | ‘ভবানীপুরে কেন শুভেন্দু’, ‘ফাটকা’র ব্যাখ্যায় দিলীপ ঘোষ‘অন্যের ভোট কেউ দিয়ে দেবে, সেটা আর হবে না’, মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি সার্চ নিয়েও মুখ খুললেন সিইওবাংলা নববর্ষের সূচনায় তারেকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে হাসিনা পুত্রের অভিযোগ, দেশ বিদেশি প্রভুদের দখলেপুলিশ তো বটেই, সরকারি গাড়িতেও এবার তল্লাশি হবে! অবাধ ভোটের লক্ষ্যে নজিরবিহীন নির্দেশিকা এডিজি-রWest Bengal Election 2026 | ভোটের আঁচে ফুটছে মেদিনীপুরকর্নাটকে 'পিরিয়ড লিভ' এবার বাধ্যতামূলক! গোটা রাজ্যেই ১ দিন বেতন-সহ ছুটির নির্দেশ হাইকোর্টের'জয় বাংলা' স্লোগান শুনে মেজাজ হারালেন শুভেন্দু, তেড়ে গেলেন! বালি থানার আইসি-কে হুঁশিয়ারি‘অপরাধ’ বাংলায় কথা বলা! ভোটের মুখে ওড়িশায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক মালদহের ১৭ পরিযায়ী শ্রমিক

কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ প্রয়াত, তাঁর চেষ্টাতেই আইটি ক্যাপিটল হয় বেঙ্গালুরু

১৯৯৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছিল কৃষ্ণের ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের সোনালি পর্ব। ওই সময় বেঙ্গালুরুকে দেশে তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের রাজধানী হিসাবে গড়ে তোলেন তিনি।

কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ প্রয়াত, তাঁর চেষ্টাতেই আইটি ক্যাপিটল হয় বেঙ্গালুরু

সোমানাহাল্লি মাল্লাইয়া কৃষ্ণ

শেষ আপডেট: 10 December 2024 12:08

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সোমানাহাল্লি মাল্লাইয়া কৃষ্ণ প্রয়াত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৯২। এসএম কৃষ্ণ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি।

ভারত সরকার গত বছর তাঁকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে। প্রাক্তন কংগ্রেসি কৃষ্ণ শেষ জীবনে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। একাধিক বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনো করা কৃষ্ণ বরাবর মেধাবি ছাত্র ছিলেন। ভারতের উচ্চশিক্ষিত রাজনীতিকদের মধ্যে তিনি ছিলেন একেবারে প্রথমসারিতে।

গত বছর কৃষ্ণকে পদ্মবিভূষণ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

১৯৯৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছিল কৃষ্ণের ৬০ বছরের রাজনৈতিক জীবনের সোনালি পর্ব। ওই সময় বেঙ্গালুরুকে দেশে তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের রাজধানী হিসাবে গড়ে তোলেন তিনি। ভোল বদলে দেন রাজ্যের রাজধানীর। বেঙ্গালুরুর পরিকাঠামোর প্রভূত উন্নতি হয় তাঁর সময়ে। বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি হিসাবে গড়ে তোলার কৃতিত্ব অর্জন করলেও ২০০৪ সালের বিধানসভার নির্বাচনে দলকে ক্ষমতায় ফেরাতে পারেননি। অভিযোগ ছিল কৃষ্ণ শহরের উন্নয়ন নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। গ্রামের কথা ভাবেননি। যদিও কৃষ্ণর যুক্তি ছিল তথ্য প্রযুক্তি খাত থেকে আসা রাজস্ব দিয়ে তিনি গোটা রাজ্যের উন্নতি ঘটিয়েছেন।

২০০৪ সালেই তাঁকে কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল করে দলীয় হাইকমান্ড। রাজ্য কংগ্রেসে তাঁকে নিয়ে বিবাদের কারণে ওই সিদ্ধান্ত নেন সনিয়া গান্ধী। পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণ একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ওই সময় তাঁর রাজ্য-রাজনীতি ছেড়ে রাজ্যপাল হয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি। কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় এলে তিনিই হতেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০০৪-এর বিধানসভা ভোটে হারের অনেকটা দায় নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন। স্বীকার করেছিলেন ভোট ছয় মাস এগিয়ে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। বলেছিলেন, ‘রাজ্যবাসী মনে করেছিল আমি হেরে যাওয়ার ভয়ে ভোট এগিয়েছি।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, তথ্য প্রযুক্তি শিল্পে ভর করে নিজের ভাবমূর্তিতে অন্ধ আস্থা তৈরি হয়েছিল কৃষ্ণের। তাই একপ্রকার একক সিদ্ধান্তেই ভোট এগিয়ে আনায় ভরাডুবি হয়েছিল। দলের সঙ্গে বিরোধের কারণেই ২০১২ সালে ইউপিএ সরকারের বিদেশমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।

তবে কৃষ্ণের মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়ে সবচেয়ে দুর্যোগময় পর্বটি ছিল চন্দন দস্যু বিরাপ্পানের জনপ্রিয় চিত্রাভিনেতা রাজকুমারকে অপহহণ। গোটা কর্নাটকে আগুন জ্বলেছিল ওই ঘটনায়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয় কৃষ্ণকে।

কৃষ্ণের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'কর্ণাটকের প্রবীণ জননেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণের মৃত্যুতে শোকাহত। তিনি আমাদের পর রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রাষ্ট্র ও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর সংস্কার এবং অর্জন তাঁকে ব্যাপক প্রশংসা এনে দেয়। আমি ওঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং সমস্ত ভক্তদের প্রতি সমবেদনা জানাই।'


```