
শেষ আপডেট: 12 September 2024 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনীতিতে উত্থান, দলের শীর্ষ পদে বসার অসংখ্য নজির আছে এ দেশে। বৃহস্পতিবার সিপিএমের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ছিলেন এই ব্যাপারে দৃষ্টান্ত স্থানীয়।
দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের তিনবারের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম জরুরি অবস্থার দিনগুলিতে তৎকালীন ভারতের এলিট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেএনইউ-তে ছাত্র আন্দোলনকে নয়া মাত্রা দিয়েছিলেন।
সীতারামের নেতৃত্বে ছাত্রদের জরুরি অবস্থা বিরোধী আন্দোলন মোকাবিলায় ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার।
সেই সিদ্ধান্ত ঘোষণার দিনে উপাচার্য বিডি নাগচৌধুরীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে আটকে দেন ছাত্ররা। পরবর্তীকালে এক সাক্ষাৎকারে সীতারাম জানিয়েছিলেন, 'উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে সবিনয়ে বলেছিলাম, স্যার, সরকার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে। আপনি বাড়ি ফিরে যান৷'
সীতারাম তাঁর স্মৃতিচারণায় বলেছিলেন, উপাচার্য নাগ চৌধুরী কথা না বাড়িয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে চলে যান।
সীতারাম স্মৃতিচারণায় আরও বলেছিলেন, উপাচার্য ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় চলতে থাকে। হস্টেল এবং অন্যান্য খরচ চালাতে দিল্লিতে নানা জায়গায় চাঁদা তোলা হয়। সেই সঙ্গে ছাত্র আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দিতে আচার্য ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়।
জেএনইউ-র আচার্য তখন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। শ-পাঁচেক ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও করেন সীতারাম।
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার অফিস থেকে জানানো হয়, তিনি পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করবেন। ছাত্ররা সেই প্রস্তাবে রাজি হন। কিছুক্ষণ পর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছাত্রদের মুখোমুখি হন। ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার পাশে দাঁড়িয়ে স্মারকলিপি পাঠ শুরু করেন। তাতে আচার্য পদ থেকে ইন্দিরার পদত্যাগের দাবির উল্লেখ ছিল। ইন্দিরা দাবিপত্রটি ফিরে যান। তিনদিন পর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা জেএনইউ-র আচার্য পদ ছেড়ে দেন। ভারতের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এই ঘটনা বিরল।