.webp)
শেষ আপডেট: 16 December 2023 09:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৩ ডিসেম্বর লোকসভার দুই ভিজিটরের ক্যানিস্টার নিয়ে ঢুকে পড়া, ধোঁয়া ছড়িয়ে অধিবেশন কক্ষে আতঙ্ক তৈরির ঘটনা নিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার জবাবদিহি করেনি। বিরোধীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিবৃতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে অনড়। প্রতিবাদী বিরোধী সাংসদদের ১৪জনকে শীতকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। পরপর দু’দিন বিঘ্ন ঘটেছে অধিবেশনে। স্বভাবতই আলোচনায় এসেছে, ২২ বছর আগে সংসদে হামলার ঘটনার পর কী ভূমিকা ছিল তৎকালীন বিজেপি সরকারের।
২০০১-এর ১৩ ডিসেম্বর। ২২ বছর আগের ওই দিনটিকে ভারতের সংসদে জঙ্গি হানা হয়। গত ১৩ ডিসেম্বর সংসদ হামলার ২২তম বর্ষের দিনেই লোকসভার অধিবেশন কক্ষে ধোঁয়া ছড়িয়ে, স্লোগান দিয়ে বেকারি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, মণিপুরের ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয় দুই তরুণ।
২২ বছর আগের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তথা লোকসভার নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী নিজেই সংসদে ওই বিষয়ে দু’দিন ধরে আলোচনার জন্য স্পিকারের কাছে প্রস্তাব রেখেছিলেন। প্রথমদিন আলোচনার সূচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানী। দ্বিতীয় দিন জবাবি ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী। সব দলের সাংসদেরা দু’দিন ধরে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাতে নিরাপত্তার গাফিলতির প্রশ্নে সরকারের সমালোচনা করলেও বিরোধীরা দেশের সুরক্ষা নিয়ে বাজপেয়ীর পাশে থাকার বার্তা দেন।
এবার মোদী-শাহের সরকার ঠিক উল্টো অবস্থান নিয়ে। ঘটনার পর দিন প্রধানমন্ত্রী সকাল সকাল সংসদের অফিসে পৌঁছে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি সিনিয়র মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। মনে করা হচ্ছে, তখনই ঠিক হয়, বিরোধীদের দাবি মানা হবে না। সরকার তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদী সরকার আলোচনা বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি এড়িয়ে যাওয়ার কারণ, বিক্ষোভকারীদের তোলা বিষয়গুলি, যা সরকারের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। ২২ বছর আগের সংসদ হামলার সঙ্গে যার কোনও মিল নেই। বিক্ষোভকারীরা দারিদ্র, বেকারি, দ্রব্যমূল বৃদ্ধি এবং মণিপুরের ঘটনা নিয়ে সরব হন।
সরকার পক্ষ বুঝেছে, বিতর্ক, আলোচনায় বিরোধীরা নিরাপত্তার পাশাপাশি বেকারি, মূল্যবৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি নিয়েও সরকারকে চেপে ধরার চেষ্টা করবে। লোকসভা ভোটের মুখে সরকার সেই ঝুঁকি নিতে চাইল না। নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বদাই বিজেপির অস্ত্র। গেরুয়া শিবির ভারত বিপন্ন বলে পাল্টা প্রচার শুরু করলেও সংসদে সরকার নীরব থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে মুখ না খুললেও একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে গিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঘটনাটি নিয়ে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলেছেন।