
শেষ আপডেট: 23 November 2023 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাত সমীক্ষা বা কাস্ট সার্ভের সিদ্ধান্ত ঘিরে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকারে বড় ধরনের গোলমাল শুরু হয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার-সহ একাধিক মন্ত্রীর বিরোধিতার মুখে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।
যদিও তিনি কারও আপত্তির তোয়াক্কা করেন না বলে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবীণ সিদ্দারামাইয়ার বক্তব্য, এটা এখন জাতীয় কংগ্রেসের কর্মসূচি। রাহুল গান্ধী গোটা দেশে কাস্ট সার্ভে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যাঁরা আপত্তি করছেন তাঁরা অনুগ্রহ করে এটা মাথায় রাখবেন।
প্রসঙ্গত, রাহুলের ঘোষণার পর কংগ্রেস শাসিত সব রাজ্যই কাস্ট সেন্সাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাঁচ রাজ্যের চলতি বিধানসভার ভোটেও কংগ্রেসের ইস্তাহারে অভিন্ন প্রতিশ্রুতি হল কাস্ট সেন্সাস।
তাতে অবশ্য দমেনি শিবকুমার গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে আপত্তি জানাতে তিনি একটি স্মারকলিপিতে সই করেছেন। ভোক্কালিগারা সংঘ নামে একটি সংগঠন কাস্ট সার্ভের রিপোর্ট প্রকাশ না করতে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে। তাতে স্বাক্ষর করেছেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তাৎপর্যপূর্ণ হল বাকি স্বাক্ষরকারীরা হলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা জেডিএস সুপ্রিমো এইচডি দেবগৌড়া, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এসএম কৃষ্ণা, কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা আর অশোকা, আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী এবং সিদ্দারামাইয়ার মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী ও বেশ কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়ক।
আসলে সিদ্দারামাইয়া নতুন করে কাস্ট সেন্সাস করাচ্ছেন না। ২০১৫-তে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি এই কাজ অনেকটা এগিয়ে রেখেছিলেন। এ বছর পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বকেয়া কাজ সেরে নতুন করে সংরক্ষণ নীতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাতেই বাধ সেধেছেন শিবকুমার।
তাঁর আপত্তির প্রধান কারণ কর্নাটকে প্রভাবশালী দুই সম্প্রদায় ভোক্কালিগা ও লিঙ্গায়েতদের বিরোধিতা। রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীদের বেশিরভাগ এই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। দুই সম্প্রদায়েরই আশঙ্কা জাত সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর তারা সামাজিক মর্যাদা হারাবে এবং সরকারি সুযোগ সুবিধাও কমে যাবে। কারণ কাস্ট সেন্সাসের উদ্দেশ্যই হল জনসংখ্যার ভিত্তিতে সংরক্ষণ কার্যকর করা।
কর্নাটকের রাজনৈতিক মহল মনে করেছে, এই ব্যাপারে জল অনেকদূর গড়াবে। মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসার রাস্তা তৈরি করতেই শিবকুমার বিরোধী নেতাদের সঙ্গে একই স্মারকলিপিতে সই করেছেন। বেশিরভাগ বিধায়ক দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠী ভোক্কালিগা এবং লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়ের। ফলে পরিষদীয় দলে এই ইস্যুতে বিদ্রোহ ঘটাতে সুবিধা হবে। যদিও বরাবরের মতো কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্দারামাইয়ার পাশেই আছে।