
বিধানসভা ভোটে লড়াই হয়েছিল একনাথ শিন্ডেকে সামনে রেখে।
শেষ আপডেট: 27 November 2024 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপমুখ্যমন্ত্রীর সান্ত্বনা পুরস্কার নয়। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করবেন না বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। বুধবার স্পষ্ট ভাষায় একথা জানিয়ে দিল শিন্ডেপন্থী শিবসেনা। পদস্থ এক সেনা নেতা এদিন বলেন, বিধানসভা ভোটে মহায়ুতি জোট বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল কেবলমাত্র একনাথ শিন্ডের জন্যই। তাঁকেই মুখ করে ভোটে লড়াই করেছিল শাসক জোট। এখন ভোটফল যেদিকে যাক না কেন, একনাথ শিন্ডে কখনই উপমুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসবেন না।
একটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যমকে শিবসেনা নেতা সঞ্জয় শিরাসত বলেন, বিধানসভা ভোটে লড়াই হয়েছিল একনাথ শিন্ডেকে সামনে রেখে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদের হকের দাবিদার তিনিই। তিনি ওই পদ ছাড়া দ্বিতীয় কোনও পদ নেবেন না। শিরাসত জোর দিয়ে বলেন, বিজেপি যদি আমাদের দাবি মেনে নেয় অর্থাৎ শিন্ডকে মুখ্যমন্ত্রী করতে রাজি হয়, তাহলে ভালো। আমাদের সমর্থক জনতার কাছে সেটা ভালো বার্তা হবে। ভবিষ্যতেও কোনও নির্বাচনে তা আমাদের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে।
প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ২৮৮টি আসনের মধ্যে ২৩০টি বিধায়ক জিতে শিন্ডেপন্থী শিবসেনা, বিজেপি এবং অজিত পাওয়ার গোষ্ঠীর এনসিপির মহায়ুতি জোট ক্ষমতায় এসেছে। তার মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ১৩২টি আসন। শিবসেনা মাত্র ৫৭ এবং এনসিপি ৪১টিতে জিতেছে। স্বভাবতই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি জানাচ্ছে। তা নিয়েই বিস্তর জলঘোলা চলছে মারাঠা রাজনীতিতে।
এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম আঠাওয়ালে জানান, শিন্ডকে কেন্দ্রে মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। সে জায়গায় দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি জোরাল হয়েছে পদ্ম শিবিরের অন্দরে। এই প্রস্তাবের উপরে শিরাসত বলেন, আমরা আঠাওয়ালের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। উনি একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ওনাকে দিল্লিতে রাজনীতি করতে বলুন। মহারাষ্ট্রের রাজনীতি উনি যেন আমাদের উপরেই ছেড়ে দেন।
সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগে থেকেই বিজেপি শিন্ডে সেনাকে জিতলে মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকে ঠিক হয়েছিল, তারা সব থেকে বেশি আসনে লড়াই করবে। কিন্তু, জোট জিতলে শিন্ডেকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। সুতরাং, জিতলেও মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে দুর্বিপাকের মেঘ ঘনিয়ে রয়েছে। তা কাটাতে তিন শিবিরের নেতারাই কোমর বেঁধে রাজনীতির পাশা চেলে যাচ্ছেন।