
ভগৎ সিং - ছবি সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 23 March 2024 12:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ, শনিবার, ২৩ মার্চ গোটা দেশে সম্মান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হচ্ছে শহিদ দিবস। ভগৎ সিং, শিবরাম রাজগুরু এবং সুখদেব থাপারকে ১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে খুন করেছিল ব্রিটিশ সরকার। সেই থেকে এই দিনটিকে দেশে ও ভারতের বাইরেও শহিদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
বাল গঙ্গাধর তিলক, লালা লাজপত রায় এবং বিপিন পাল এই তিনজন মিলে ব্রিটিশ রাজশক্তিকে হটাতে সশস্ত্র বিপ্লবের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কংগ্রেসের আবেদন-নিবেদন নীতি এবং আপসকামী বেনিয়া নরমপন্থার বাইরে বেরিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের পথিকৃৎ এই নেতা লাল-বাল-পাল নামে ইতিহাসে জ্বলজ্বল করছেন। ভগৎ সিং ছিলেন লালাজির প্রত্যক্ষ ভাবশিষ্য।
লালা লাজপত রায়কে একটি আন্দোলনে ব্রিটিশ পুলিশ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। তাতেই ক্ষুব্ধ ভগৎ ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেন। কয়েকজনকে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি বাহিনী। যারা সমাজতন্ত্রী ও বলশেভিক আদর্শে বিশ্বাসী। শেষপর্যন্ত ভগৎ, রাজগুরু এবং সুখদেব মিলে ১৯২৯ সালের ৮ এপ্রিল ব্রিটিশ সেন্ট্রাল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে বোমা ছোড়েন। কিন্তু সেই বোমা ছিল ধোঁয়া বোমা। যাতে কোনও সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয়নি। সেই প্রথম ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। ভগৎ, রাজগুরু এবং সুখদেবের বীরত্ব ও সাহসিকতা দেখে দেশের যুব সমাজ উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠল। ভগৎ সিং হয়ে উঠলেন ভারতীয় বিপ্লবী সমাজের আদর্শ পুরুষ।
শহিদ দিবস পালিত হয় ঔপনিবেশিকতাবাদী ব্রিটিশ রাজশক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে। এত বছর পরেও ভগৎ সিং দেশের যুবসমাজের কাছে প্রতিবাদের মশালের মতো জ্বলে রয়েছেন। ভগৎ সিংয়ের জীবন নিয়ে দেশে বেশ কিছু সিনেমা ও নাটক লেখা ও অভিনীত হয়েছে। লেখা হয়েছে সেই সময়ের বিখ্যাত গান সরফরোশি কা তামান্না অথবা রং দে বাসন্তী। যা আজও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাজে।
১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ দিনটি ছিল সোমবার। ঘড়িতে সময় তখন সকাল সাড়ে ৭ টা । লাহোর জেলে ফাঁসি দেওয়া হয় ভগৎ সিং, শিবরাম রাজগুরু এবং সুখদেব থাপরকে । আর সেই সময় তিনজনের মুখে ছিল অদ্ভুত এক মুচকি হাসি সাথে একটাই স্লোগান 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ'।