২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হিন্ডেনবার্গ দাবি করেছিল, আদানি গোষ্ঠী তার তিনটি সংস্থা, আদিকর্প এন্টারপ্রাইজেস, মাইলস্টোন ট্রেডলিঙ্কস ও রেহভার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে গোষ্ঠীর বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে টাকা স্থানান্তর করেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 September 2025 20:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের (Hindenburg Research) তোলা অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন বলে জানাল ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)। গৌতম আদানি ও আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে তারা।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে হিন্ডেনবার্গ দাবি করেছিল, আদানি গোষ্ঠী তার তিনটি সংস্থা, আদিকর্প এন্টারপ্রাইজেস, মাইলস্টোন ট্রেডলিঙ্কস ও রেহভার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে গোষ্ঠীর বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে টাকা স্থানান্তর করেছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেবি দু'টি পৃথক আদেশে জানায়, তদন্তে এমন কোনও অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি।
সেবির ব্যাখ্যা, ওই সময় যে ধরনের লেনদেন হয়েছিল, তা তখনকার নিয়মে ‘রিলেটেড পার্টি ট্রানজ্যাকশন’-এর আওতায় পড়ত না। নিয়ম পরিবর্তন হয় ২০২১ সালে। উপরন্তু, সব ঋণ ফেরত দেওয়া হয়েছে, তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই এবং কোথাও প্রতারণা বা বেআইনি লেনদেন হয়নি। তাই আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সমস্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছে।
খবর প্রকাশ্যে আসার পর আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “দীর্ঘ তদন্তের পর সেবি প্রমাণ করল, হিন্ডেনবার্গের দাবি ভিত্তিহীন। আমরা বারবার বলেছি, স্বচ্ছতা এবং সততা আদানি গোষ্ঠীর ভিত্তি। যে বিনিয়োগকারীরা ওই ভুয়ো রিপোর্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা সহানুভূতিশীল। যাঁরা মিথ্যে প্রচার চালিয়েছিলেন, তাঁদের দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। সত্যমেব জয়তে! জয় হিন্দ!”
সেবির প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জে. এন. গুপ্ত জানিয়েছেন, “গত দুই বছরে ধীরে ধীরে প্রায় সবাই বুঝেছিলেন আদানিরা অন্যায় করেননি। আজকের রায় সেটাই চূড়ান্ত করল। তবে এতে আরও একটি দিক স্পষ্ট হল আমরা প্রমাণ ছাড়া অনেক কিছু বিশ্বাস করি, এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছতে আমাদের ব্যবস্থার সময় লেগে যায়। এই সময়ে বহু রিটেল বিনিয়োগকারী ভয় পেয়ে বিনিয়োগ তুলে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
হিন্ডেনবার্গের অভিযোগকে গোষ্ঠী বরাবরই “রাজনৈতিক ও আর্থিক চক্রান্ত” বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পরে গৌতম আদানি প্রকাশ্যে বলেন, “২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণ ছিল শুধু আর্থিক নয়, রাজনৈতিকও। বিদেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাজারে আঘাত হানা হয়েছিল। আমাদের ফলো-অন পাবলিক অফারের ঠিক আগে টার্গেট করা হয়, যাতে সর্বাধিক ক্ষতি হয়। কিছু স্বার্থান্বেষী গণমাধ্যমও সেই প্রচার আরও বাড়িয়ে দেয়।” অবশেষে সেবির রায়ে স্পষ্ট হল, হিন্ডেনবার্গের আনা অভিযোগে কোনও সত্যতা নেই।