
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 20 March 2025 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'লাইন নির্ভুলভাবে লিখতে পারেন না, অথচ তিনি সাব-ইন্সপেক্টর। নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাতালিকায় নাম উঠলেও শেষ পর্যন্ত জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন মণিকা জাট নামে ওই মহিলা। পরীক্ষায় হিন্দি বিষয়ে ২০০-তে ১৮৪ নম্বর পেলেও, ২০ লাইনের আবেদনপত্রে ১৩টি বানান ভুল করেন তিনি। এখান থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে, তদন্ত শুরু হয়, আর তাতেই ফাঁস হয়ে যায় প্রতারণার চক্র।
২০২১ সালের সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও জালিয়াতির মামলায় স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) মণিকাকে গ্রেফতার করেছে। সুলতানপুরের বাসিন্দা মণিকা ওই পরীক্ষায় ৩৪তম স্থান অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, তিনি ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় লেখেন। হলে কানে ব্লুটুথ ইয়ারবাড লাগিয়ে বসেছিলেন মণিকা। প্রতারণা চক্রের এক ব্যক্তি ওপ্রান্ত থেকে প্রশ্নের উত্তর বলে দিচ্ছিলেন, আর মণিকা তা খাতায় লিখে যাচ্ছিলেন। এই স্ক্যামের জন্য তিনি ১৫ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তিকে। তবে যখন ইন্টারভিউ নেওয়া হয়, তখন তিনি মাত্র ১৫ নম্বর পান, যা তাঁর পরীক্ষার ফলাফলের তুলনায় সন্দেহজনক ছিল।
পুলিশ লাইনে যোগদানের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় আরও এক বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসে। মণিকা ২০ লাইনের আবেদনপত্রে ১৩টি হিন্দি শব্দ ভুল লিখেছিলেন। এতে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়—এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে পরীক্ষায় এত বেশি নম্বর পেলেন? তারপরই জেরা করতে শুরু করেন। সামনে আসে গোটা ঘটনা।
তদন্তে উঠে আসে, কালী নামের এক ব্যক্তি মণিকাকে পরীক্ষায় নকল করতে সাহায্য করেছিলেন। তিনিই প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন এবং ব্লুটুথের মাধ্যমে মণিকাকে উত্তর বলে দিয়েছিলেন। পরীক্ষায় হিন্দি বিষয়ে মণিকা ২০০-তে ১৮৪ নম্বর এবং সাধারণ জ্ঞানে ২০০-তে ১৬১ নম্বর পেয়েছিলেন, যা তাঁকে মেধাতালিকায় ৩৪তম স্থানে জায়গা করে দেয়।
মণিকার সঙ্গে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে প্রতারণার মাস্টারমাইন্ড পৌরভ কালী।