
শেষ আপডেট: 26 February 2024 19:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক ছোবলেই ছবি করে দিতে পারে কিং কোবরা, যাকে ভারতে ডাকা হয় রাজ শঙ্খচূড় নামে। এশিয়াতে সবেচে বেশি এই সাপের দেখা মেলে। বিশাল ফণাওয়ালা এক একটি শঙ্খচূড় দৈর্ঘ্যে হয় প্রায় ১৫-১৬ ফুট। মারাত্মক এদের বিষ। শিশু বা বয়স্ক হলে নির্ঘাত মৃত্যু, কমবয়সিরাও বাঁচতে পারবে না এই বিষের জ্বালা থেকে। অ্যান্টিভেনোম নিয়ে যতটা সময় লাগবে ততক্ষণে প্রাণ বেরিয়ে যাবে রোগীর। এমন ভয়ঙ্কর বিষধর সাপের বিষ কাটাতে নতুন রকম অ্যান্টিবডি তৈরি করলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।
বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি)-এর বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি করেছেন যা সাপের বিষের নিউরোটক্সিন নষ্ট করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এইচআইভি ও করোনার সংক্রমণ সারাতে এই ধরনের অ্যান্টিবডির প্রয়োগ হয়েছিল মানুষের শরীরে। এই অ্যান্টিবডির ট্রায়াল করে দেখা গেছে, এগুলি সাপের বিষের মারণ টক্সিন নষ্ট করতে পারে। ল্যাবোরেটরিতে এই অ্যান্টিবডিকে আরও ঘষে মেজে সাপের বিষের প্রতিরোধী করে তৈরি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানী সেনজি আরআর ও কার্তিক সুনাগর বলছেন, মাত্র ১০ শতাংশ অ্যান্টিভেনোমে এই অ্যান্টিবডির উপাদান মিশিয়ে দেওয়া হবে। শরীরে ইনজেক্ট করলেই বিষের টক্সিনের প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি শরীরেই তৈরি হবে। খুব দ্রুত কাজ করবে এই অ্যান্টিবডি। সাপের বিষ রক্তে মিশে স্নায়ুকে শিথিল করে দেওয়ার আগেই বিষের টক্সিন নষ্ট করবে নতুন তৈরি অ্যান্টিবডি।
সর্পবিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলায় চার রকমের সাপের উপদ্রবই বেশি। কালাচ, চন্দ্রবোড়া, কেউটে এবং গোখরো। দক্ষিণের জেলাগুলিতে চন্দ্রবোড়া বেশি দেখা যায়। পাহাড়ে এরা থাকে না। কালাচ অবশ্য রাজ্যের সব জায়গাতেই কমবেশি দেখা যায়। কালাচের বিষ মারাত্মক। সুন্দরবনে কেউটে বেশি। সাধারণত গ্রামের দিকেই কেউটে ও গোখরোর ছোবলে বেশি প্রাণ যায়। গ্রামেগঞ্জের দিকে শঙ্খচূড়ের দেখা মেলে।
শীতকালে সাপ শীতঘুম বা হাইবারনেশনে থাকে। বর্ষাকালেই এদের উপদ্রব বেশি হয়। গোখরো, কালাচ ও কেউটে, শঙ্খচূড়ের বিষ হল নিউরোটক্সিক (স্নায়ুকে আক্রান্ত করে) এবং চন্দ্রবোড়ার বিষ হেমোটক্সিক। এই বিষ শরীরে ঢুকলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের মাথার সমান উচ্চতায় ফণা তুলে দাঁড়াতে পারে শঙ্খচূড়। একটি পূর্ণবয়স্ক শঙ্খচূড় ১৫-১৮ ফুটের হয়। বিশাল দৈর্ঘ্যের এই সাপ বিপদ বুঝলেই আক্রমণ করার জন্য নিজের শরীরের এক-তৃতীয়াংশ মাটি থেকে শূন্যে তুলে দিতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অ্যান্টিবডি কার্যকরী হলে শুধু শঙ্খচূড় নয়, কেউটে, কালাচ, গোখরোর মতো বিষধর সাপের বিষের প্রভাবও নষ্ট করা যাবে।