
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 1 April 2025 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিভি খুললেই স্বামীকে খুন, স্ত্রীকে খুন, এসব খবর দেখা যায়। সে সব মাথায় চলে বইকি। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের মীরাটে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করে ড্রামে ভরে রাখার গল্পেও বেশ চাঞ্চল্য ছড়ায়। এসব ঘটনার পর নিজের প্রাণ বাঁচাতে সম্প্রতি স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেন এক ব্যক্তি। সাক্ষী হিসেবে দেন সাক্ষরও। কিন্তু এখানেই গল্প শেষ হয়নি। ওই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তাঁরা যাতে মাতৃস্নেহ পায়, সেজন্য মহিলাকে স্বামীর ঘরে ফেরত পাঠালেন প্রেমিক।
ঘটনা উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবীর নগরের কাতার জোট গ্রামের। সেখানকার বাবলু ও গোরখপুরের রাধিকার ২০১৭ সালে বিয়ে হয়। বাবলু কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এদিকে, গ্রামের লোকেরা বাবলুকে জানায়, তার স্ত্রী দীর্ঘ দেড় বছর ধরে একই গ্রামের বিকাশ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত। এই খবরের সত্যতা যাচাই করতে গ্রামে ফিরে আসেন।
কয়েকদিন ধরে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চিত হন তাঁর স্ত্রী সত্যিই বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাবলু কোনও ঝামেলায় না গিয়ে রাধিকা ও বিকাশের বিয়ে দেবেন বলে ঠিক করেন। বাবলু গ্রামের প্রবীণদের ডেকে পুরো ঘটনাও জানান। এরপর গত মাসের শেষের দিকে গ্রামের শিব মন্দিরে হিন্দু রীতি অনুযায়ী রাধিকা ও বিকাশের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল রাধিকার দুই সন্তান ও গ্রামের মানুষজন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিকাশ রাধিকার সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছেন এবং মালা বদল হচ্ছে।
বাবলু নিজেও নতুন দম্পতির সঙ্গে ছবি তোলেন এবং পরে তাঁদের আইনি বিয়েতে সাহায্য করেন। কিন্তু এই কাহিনির মোড় ঘুরে যায় বিয়ের কয়েকদিন পরই। রাধিকা বিকাশের বাড়ি গেলে তাঁর মা ফিরিয়ে দেন। বিকাশের মা বলেন, 'ও আমার ছেলে, তবে আমি রাধিকাকে ওর আগের স্বামীর কাছে ফেরত পাঠিয়েছি। ওদের দুটো ছোট বাচ্চা আছে। আমি ওদের মায়ের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত করতে চাইনি।'
নতুন শাশুড়ির এই সিদ্ধান্তের পর রাধিকাও বাবলুর কাছে ফিরতে রাজি হন। রাধিকার পাশে দাঁড়িয়ে বাবলু বলেন, 'ও অন্য কাউকে বিয়ে করেছিল। তবে কোনও দোষ করেনি। আমি ওকে ফিরিয়ে নিচ্ছি। এখন থেকে যা কিছু হবে, তার জন্য আমি সম্পূর্ণভাবে দায়ি থাকব। আমরা আগের মতোই আবার একসঙ্গে পরিবার হিসেবে থাকব।'
এই ঘটনার পর অনেকেই বাবলুর মানবিকতা ও বড় মনের প্রশংসা করেছেন। সম্পর্ক জুড়ে যাওয়ায় খুশি গ্রামবাসীদের একাংশও।