
শেষ আপডেট: 6 October 2023 23:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিকিমে বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। মৃতদের মধ্যে ৭ জওয়ান রয়েছেন। ইতিমধ্য়ে তিস্তা নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে ২২টি দেহ। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। চলছে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি। তিস্তার হড়পা বানে বিধ্বস্ত উত্তর সিকিমের লাচেন ও লাচুংয়ে এখনও আটকে রয়েছেন ৩০০০-এরও বেশি মানুষ। আটকে রয়েছেন প্রায় ৩১৫০ জন বাইকআরোহী, যারা বাইকে চড়ে সিকিমে গিয়েছিলেন। তাদের সবাইকে সেনা ও বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার লোনক হ্রদ ফেটে সিকিমে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার নেপথ্যে রয়েছে ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ (জিএলওএফ)। তবে সিকিমের বুকে যে দুর্যোগ নেমে আসতে পারে, তা নিয়ে অতীতে বহু বার সতর্ক করেছিলেন গবেষকরা। সিকিমে হিমবাহ সৃষ্ট হ্রদ ফেটে মারাত্মক বন্যা হতে পারে এমন সতর্কতা জারি করেছিল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোও।
যে লোনক হ্রদ থেকে এই বিপদের উৎপত্তি, সেই হ্রদটির প্রায় ৬৫ শতাংশ, বা প্রায় ১০৫ হেক্টর জলই বেরিয়ে গিয়েছে। আর হ্রদের ছবি ধরা পড়েছে ইসরোর উপগ্রহচিত্রে। ১৭ সেপ্টেম্বর, ২৮ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর, অর্থাৎ বুধবার সকালে হ্রদটির কী অবস্থা ঠিল, তার তিনটি ছবি পাশাপাশি দিয়েছে ইসরো। তাতেই দেখা যাচ্ছে বুধবারের ওই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যা রাজ্যে সর্বনাশ ডেকে আনার পর, হ্রদটির আয়তনই বদলে গিয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর তোলা ছবিদুটিতে দেখা যাচ্ছে হ্রদটি বন্দুকের গুলির আকৃতির। ইসরোর দাবি অনুযায়ী, ওই দুদিন হ্রদটির আয়তন ছিল যথাক্রমে আনুমানিক ১৬২.৭ এবং আনুমানিক ১৬৭.৪ হেক্টর। এর পাশাপাশি বুধবার ভোর ৬টায় তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হ্রদটির অর্ধেকেরও বেশি অংশ গায়েব। ইসরোর দাবি, ওই সময় হ্রদটির আয়তন কমে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৬০.৩ হেক্টরে
বেষণায় আগেই জানা গিয়েছিল, সিকিমের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দক্ষিণ লোনক হ্রদ ১৪টি বিপজ্জনক হ্রদের মধ্যে একটি। যেখানে জিএলওএফ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।২০১২-১৩ সালে ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার এবং ইসরোর এক সমীক্ষায় লোনক হ্রদের আসন্ন বিপদের কথা বলা হয়েছিল।
এই হ্রদ ফেটে যাওয়ায় একতোড়ে বিপুল পরিমান জল রাশি সিকিমের চুংথাংকে একেবারে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এমনকী তিস্তার জলের স্তর ৩০ থেকে ৪০ ফুট পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছিল। ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা উত্তরবঙ্গে। সিকিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ সিংথাম একেবারে ভেসে গিয়েছে।