
শেষ আপডেট: 15 January 2024 13:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের মাটিতে ইতিহাস সৃষ্টি হতে আর মাত্র কটা দিন। আগামী ২২ তারিখ উদ্বোধন হতে চলেছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের। তার আগে কিছুটা স্বাভাবিক নিয়মেই কিন্তু সরগরম ভারতের রাজনৈতিক অন্দরমহল। ইতিমধ্যেই একাধিক রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রী সহ তাবড় ব্যক্তিত্ব রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন অযোধ্যায় আমন্ত্রণ পেয়েছেন। কিন্তু আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও ওই দিন সেখানে যাবেন না বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও একই পথে হেঁটেছেন। তবে কিছুটা তফাৎ রেখে উল্টো সুর গাইলেন শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত। কী বললেন তিনি?
২২ জানুয়ারি যে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হতে চলেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। এই প্রেক্ষিতেই সঞ্জয়ের বার্তা, যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাঁদের অবশ্যই রাম মন্দির উদ্বোধনের দিন অযোধ্যা যাওয়া উচিত। এই মন্তব্য করে তিনি অবশ্য বিজেপিকে একহাত নিয়েছেনও। তাঁর কটাক্ষ, রাম সকলের। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। তাই যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাঁদের তো অবশ্যই, বরং যাঁদের করা হয়নি তাঁদেরও সেদিন অযোধ্যায় যাওয়া উচিত। সঞ্জয় রাউতের তীর্যক প্রশ্ন, ওরা (বিজেপি) এভাবে আমন্ত্রণ জানানোর কে? অযোধ্যায় কি বিজেপির পার্টি অফিস খোলা হয়েছে?
বড় বিষয় হল, গত সপ্তাহেই কংগ্রেসের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, নেত্রী সনিয়া গান্ধী, লোকসভার নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী ২২ তারিখের অযোধ্যার অনুষ্ঠানে যাবেন না। হাত শিবিরের পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানকে আরএসএস-বিজেপি ইভেন্ট বলে দেগে দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের সাফ কথা, ধর্ম একটি ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু আরএসএস এবং বিজেপি এই রাম মন্দির উদ্বোধনের বিষয়টিকে বহু আগে থেকেই রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ফেলেছে। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে ফায়দা তুলতে তারা রাম মন্দিরকে ব্যবহার করছে বলেই দাবি কংগ্রেসের।
প্রসঙ্গত, শুধু ২২ জানুয়ারি মন্দির উদ্বোধন নয়, তারপরেও অযোধ্যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে গেরুয়া শিবিরের তরফে। একই সঙ্গে বিজেপির কর্মীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবেন এবং সাধারণ মানুষকে সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দেবেন। ফলে রাম মন্দির নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা লোকসভা ভোট পর্ব ধরে চলবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদীও ২২ জানুয়ারির পর ভোট প্রচারে রাজ্য সফর শুরু করবেন।