ছোট থেকে বড় করে তোলা ৩৮৫টি গাছ আজ অনাথ হয়ে গেল। গাছেদের 'মা' সালুমারাদা থিম্মাক্কা প্রয়াত। গোটা দেশের কাছে “বৃক্ষ-মাতা” নামেই পরিচিত হয়েছিলেন সালুমারাদা থিম্মাক্কা।

সালুমারাদা থিম্মাক্কা
শেষ আপডেট: 15 November 2025 14:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোট থেকে বড় করে তোলা ৩৮৫টি গাছ আজ অনাথ হয়ে গেল। গাছেদের 'মা' সালুমারাদা থিম্মাক্কা প্রয়াত। গোটা দেশের কাছে “বৃক্ষ-মাতা” নামেই পরিচিত হয়েছিলেন সালুমারাদা থিম্মাক্কা (Salumarada Thimmakka)। বহু মানুষের অনুপ্রেরণা এই পরিবেশ-যোদ্ধা আর নেই। বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর চলে যাওয়া প্রাকৃতি–প্রেমীদের মনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে, কিন্তু রেখে গেছেন অসাধারণ সবুজ পরিবেশ।

কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলার হুলিকাল গ্রামে বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জন্ম হয় থিম্মাক্কার। স্বামী চিক্কাইয়াহের সঙ্গে মিলেই তিনি পরিবেশ রক্ষার যাত্রা শুরু করেন। রাস্তার ধারে নির্জন এক জায়গায় একের পর এক গাছ লাগিয়ে। বছরের পর বছর যত্ন করে তাঁরা গড়ে তোলেন ৩৮৫টি বটগাছ। এই গাছের সারিই তাঁর নামের পাশে “সালুমারাদা” উপাধি জুড়েছিল, যার অর্থ কন্নড়ে ‘গাছের সারি’।
থিম্মাক্কার কাজ শুধু গাছ লাগানো নয়, মানুষকে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করাও ছিল লক্ষ্য। তাঁর উদ্যোগ দেখে দেশের নানা প্রান্তে ছাত্রছাত্রী, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন গাছ লাগানোর কাজে উৎসাহ পেয়েছে। তিনি সবাইকে বুঝিয়েছিলেন পরিবেশকে ভালবাসতে অনেক টাকা বা বিশেষ সুযোগ লাগে না। প্রয়োজন শুধু ইচ্ছে আর দায়িত্ববোধের।
জীবনের পথে থিম্মাক্কা বহু রাজ্য ও জাতীয় সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু সরল জীবনযাপন এবং প্রকৃতির পাশে থাকার নীতি কখনও বদলায়নি তাঁর। তিনি নিয়মিত পরিবেশ রক্ষার কথা বলতেন এবং তরুণদের শেখাতেন, একটি গাছ মানেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশীর্বাদ। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে পদ্মশ্রী পান তিনি।
সালুমারাদা থিম্মাক্কার মৃত্যু এক যুগের শেষ হলেও তাঁর রেখে যাওয়া সবুজ উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে। তিনি যে গাছ রোপণ করেছিলেন, যে বার্তা ছড়িয়ে গিয়েছিলেন, সেগুলোই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখাচ্ছে। তাঁর কাজই আজ তাঁর জীবন্ত স্মৃতি।