
সলিল শতবর্ষে মুম্বইয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান
শেষ আপডেট: 16 April 2025 18:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষকে স্মরণ করে অভিনব এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও এনসিই বেঙ্গলের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের মুম্বই শাখা। অনুষ্ঠানটির নাম দেওয়া হয়েছে সলিল চৌধুরীরই বিখ্যাত গানের অনুপ্রেরণায়, 'পৃথিবীর গাড়িটা থামাও'। এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান হবে ২০২৫ সালের ১০ মে, নবি মুম্বইয়ের মারাঠা সাহিত্য মন্দির অডিটোরিয়ামে।
এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র একটি মঞ্চাভিনয় নয়, এটি সলিল চৌধুরীর জীবন, আদর্শ, এবং সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক অভিনব অনুষ্ঠান। স্মৃতিচারণার আঙ্গিকে গল্প, গান, কবিতা, দৃশ্যচিত্র ও দুর্লভ সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে এক সম্মিলিত অভিব্যক্তি। অনুষ্ঠানের ভাষা মূলত বাংলা হলেও, এতে থাকছে হিন্দি ও মালয়ালম গানও, যা সলিল চৌধুরীর বহুভাষিক সৃষ্টিশীলতার সাক্ষ্য বহন করবে।
গত প্রায় তিন মাস ধরে ২০ জনেরও বেশি শিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পী মুম্বইয়ের যাদবপুর অ্যালুমনি মঞ্চে প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই অনুষ্ঠানের জন্য।
সলিল চৌধুরীর গান 'পৃথিবীর গাড়িটা থামাও' —জীবনের ছুটে চলা এই ট্রেনটাকে একটু থামিয়ে, চারপাশের অন্যায়, অবিচার, দুঃখ-বেদনার দিকে একটু তাকিয়ে দেখার আকুতি। এই গান তাঁর সমাজসচেতন মনন ও নিপীড়িতদের প্রতি গভীর সহানুভূতির প্রতিফলন। গানে তিনি বলেন, সভ্যতার অন্ধগতির নামে যেন মানবতা হারিয়ে না যায়।
সলিল চৌধুরী (১৯ নভেম্বর ১৯২৫– ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯৫) ছিলেন একাধারে সুরকার, কবি, ও দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির শিল্পী। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, পশ্চিমী হারমনি ও লোকসঙ্গীতের অসাধারণ সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন অনন্য সংগীত জগৎ। তাঁর কাজ ভাষা ও অঞ্চল ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে সারা দেশে, এমনকি আন্তর্জাতিক স্তরেও।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালুমনির ও মুম্বই শাখার প্রাক্তন সভাপতি দিব্যেন্দু চক্রবর্তী বলেন, 'সলিল চৌধুরীর শতবর্ষ শুধু স্মরণ নয়, এ এক অন্তরের যাত্রা, একজন স্রষ্টার জীবনের দিকে ফিরে তাকানোর সময়। তাঁর গান আজও আমাদের মতো করে স্পর্শ করে, আজও আমাদের ভাবায়, জাগায়।'
উল্লেখ্য, মুম্বই শাখার এই অ্যালুমনি সংস্থা গত কয়েক দশক ধরে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করে চলেছে। ২০১০ সালের মার্চে ‘হেরিটেজ অব ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিক’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছিল প্রভাদেবীর রবীন্দ্র নাট্যমন্দিরে, যেখানে প্রধান আকর্ষণ ছিলেন পণ্ডিত রশিদ খান। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক অনুষ্ঠানের স্মৃতিকে ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ ছিল।
১৯৫৬ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও এনসিই বেঙ্গলের প্রাক্তনীদের মুম্বই শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই সংস্থায় ৩৫০-এর বেশি সক্রিয় সদস্য আছেন, যাঁরা বিভিন্ন শিল্প, সংস্থা ও সরকারি দফতরের সঙ্গে যুক্ত।
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গবেষণা-ভিত্তিক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯০৬ সালে স্বদেশি আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় শিক্ষা পরিষদ (NCE) প্রতিষ্ঠা করে স্বদেশি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, যার উত্তরসূরিই আজকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২১ সালে এনসিই অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশন তাদের শতবর্ষ উদ্যাপন করে।
অনুষ্ঠানটিতে যোগদানের জন্য https://www.juaam.com/event/event_detail/31 ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।