
মোহন ভাগবত। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 19 July 2024 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের মন্তব্যে ফের একবার দেশের রাজনীতির পরিমণ্ডলে হালচাল পড়ে গিয়েছে। ভাগবত এক সভায় বলেন, মানুষের স্বভাবই হচ্ছে সে প্রথমে অতিমানব হতে চায়। তারপর দেবতা, ভগবান হতে চায়। অবশেষে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে সে বিশ্বরূপ ধারণ করবে।
বিজেপির মস্তিষ্ক সঙ্ঘপ্রধানের এই ভাষায় ভাষণের পরই দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। কংগ্রেস তাঁর বক্তব্যকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আচরণের সঙ্গে জুড়ে দিতে দেরি করেনি। দলের জনসংযোগ প্রধান তথা রাজ্যসভার সদস্য জয়রাম রমেশ সঙ্গে সঙ্গে এক এক্সবার্তায় ভাগবতের বক্তব্যের ভিডিও অংশটি জুড়ে মোদীকে টিপ্পনি কাটতে কসুর করেননি।
রমেশের মন্তব্য, আমি নিশ্চিত স্বঘোষিত ঈশ্বরপুত্র প্রধানমন্ত্রী নিশ্চই খবরটি এতক্ষণে পেয়ে গিয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের মাটি থেকে নাগপুরের (আরএসএসের সদর কার্যালয়) অগ্নি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যার অভীষ্ট লক্ষ্য লোককল্যাণ মার্গ (প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন)। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডের গুমলায় এক অনুষ্ঠানে ভাগবত এই ভাষণ দেন। সংগঠনের এক সদস্য অশোক ভাগবতের সমাজসেবী সংস্থা বিকাশ ভারতী আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওই গ্রামে গিয়েছিলেন সঙ্ঘপ্রধান। সেখানে গ্রামভিত্তিক কর্মিসভায় বক্তব্য বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ভাগবত বলেন, মানুষের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কোনও শেষ নেই। উপরে উঠতে চাওয়ার কোনও অন্ত নেই। মানুষ অতিমানুষ হতে চায়। কিন্তু, সেখানেও সে থেমে থাকতে পারে না। এরপর সে দেবতা পরে ভগবান হতে চায়। তাতেও তার আশ মেটে না। সে বিশ্বরূপ ধারণ করতে চায়। কেউ জানে না এর থেকেও বৃহৎ কিছু আছে কিনা!
ভাগবত আরও বলেন, একজন কর্মীকে মনে রাখতে হবে, অনেক কিছু করার পরেও তাঁর আরও কিছু করার আছে। উন্নয়ন হল এক ধারাবাহিক কাজ। আজ যাদের শিক্ষিত করার কাজ চলছে, কয়েকদিনে আবার নতুন প্রজন্ম চলে আসবে। কখনও ভাবলে চলবে না, আমি অনেক চারাগাছ পুঁতেছি, আরও চারা রোপণ করে যেতে হবে। তাঁর মতে, সনাতন ধর্ম হল মানবকল্যাণে ব্রতী।