
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 March 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সমাধি নিয়ে তোলপাড় চলছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির মধ্যে, সেই হিন্দুত্ববাদীদের মূল মস্তিষ্ক বা পরিচালক শক্তি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ চলতি বিতর্কে জল ঢেলে দিল। হিন্দু অত্যাচারী শাসক হিসেবে ইতিহাসে কুখ্যাত ঔরঙ্গজেব আজকের দিনে প্রাসঙ্গিক নয় বলে সাফ জানিয়ে দিল সরসঙ্ঘ। আরএসএসের সদর দফতর নাগপুরে বসে সংগঠনের কার্যকর্তা সুনীল অম্বেকর পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আজকের দিনে ঔরঙ্গজেবের আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই।
প্রসঙ্গত, সরসঙ্ঘ একথা বললেও ঔরঙ্গজেবের সমাধি ধ্বংস নিয়ে নাগপুর শহরে গত সোমবার রাত থেকে দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শুধু নাগপুরেই নয়, গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি এদেশ থেকে ঔরঙ্গজেবের সমাধি উপড়ে ফেলার দাবিতে সোচ্চার হয়েছে। এমনকী কেউ বুলডোজার দিয়ে ওই সমাধি গুঁড়িয়ে দিতে পারলে তাকে ২১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে উত্তরপ্রদেশের একটি সংগঠন। এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মুহূর্তে সঙ্ঘের তরফে বুধবার স্পষ্টতই ঔরঙ্গজেব ইস্যুতে দূরত্ব বজায় রাখার নীতি নেওয়া হল।
অম্বেকরকে এদিন প্রশ্ন করা হয়, ঔরঙ্গজেবকে নিয়ে যে বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে, তাতে কি আপনি মনে করেন আজকের যুগেও মুঘল সম্রাটের কোনও প্রাসঙ্গিকতা আছে? সত্যিই কি ঔরঙ্গজেবের সমাধি অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া কিংবা ভেঙে দেওয়া উচিত? জবাবে তিনি বলেন, ঔরঙ্গজেবের এখন আর কোনও প্রাসঙ্গিকতা নেই। আর যে কোনও হিংসাত্মক ঘটনাই সমাজের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার মহারাষ্ট্র বিধানসভা ও বিধান পরিষদে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে ঔরঙ্গজেব প্রসঙ্গ ও হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে তীব্র নিন্দা করেন। একনাথ শিন্ডে তো ঔরঙ্গজেবের সমাধি নিয়ে বলতে গিয়ে আল কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও টেনে আনেন। ঔরঙ্গজেবের সঙ্গে ওসামা বিন লাদেনের তুলনা টেনে শিন্ডে বলেন, কুখ্যাত জঙ্গি লাদেনকে মারার পর আমেরিকা কী করেছিল? লাদেনকে বীর শহিদের মর্যাদায় কবরস্থ না করে তাঁর ছিন্নভিন্ন দেহ সাগরজলে ভাসিয়ে দিয়েছিল আমেরিকা। যাতে লাদেনের আত্মত্যাগ নিয়ে কেউ মাহাত্ম্য কীর্তন না করতে পারে।
বিধান পরিষদে উপমুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কে ঔরঙ্গজেব? কেন আমরা এরাজ্যে তাঁর সমাধিকে গৌরবান্বিত করব? হিন্দু সংগঠনগুলি যেখানে মুঘল সম্রাটের সমাধি গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে তখন তাকে নিয়ে কেন বাড়াবাড়ি করবে সরকার। ঔরঙ্গজেব হলেন আমাদের দেশের ইতিহাসে এক কলঙ্ক। মারাঠা উপমুখ্যমন্ত্রীর এই জবাবি ভাষণের পরদিনই আরএসএস ধোঁয়াশা কাটিয়ে জানিয়ে দিল ঔরঙ্গজেব এখন আর প্রাসঙ্গিক নন। হিংসা ছড়ানো নিন্দাজনক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকর।