
সঙ্ঘের মতে, সেদেশে থাকা হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া এবং হিংসায় সরকার মদত জোগাচ্ছে।
শেষ আপডেট: 22 March 2025 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপর গত একবছরের বেশি সময় ধরে চলা নির্যাতনকে গভীর উদ্বেগের বলে মনে করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ। বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদী দলগুলির প্রধান চালিকাশক্তি আরএসএস শনিবার এক গৃহীত প্রস্তাবে বাংলাদেশে সরকার ও প্রাতিষ্ঠানিক মদতে হিংসা ও ঘৃণা ছড়িয়ে হিন্দু নির্যাতনের তীব্র নিন্দা করে। কেন্দ্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের নেপথ্য পরিচালিকা সংগঠন আরএসএস এই প্রথম সরাসরি বাংলাদেশ সরকার এবং সেদেশের প্রশাসনকে হিন্দু নির্যাতনের জন্য দায়ী করল। সঙ্ঘের মতে, সেদেশে থাকা হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া এবং হিংসায় সরকার মদত জোগাচ্ছে।
সঙ্ঘের তিনদিনের বার্ষিক বৈঠকের দ্বিতীয় দিনের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানান সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অরুণ কুমার। এদিন তিনি বিজেপি এবং সঙ্ঘের মধ্যে কোনও অন্তর্দ্বন্দ্বের সম্ভাবনার কথাও একবাক্যে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দেরি হওয়ার পিছনে আরএসএসের সঙ্গে তাঁদের কোনও বিরোধ নেই।
উল্লেখ্য, বিজেপির বর্তমান সভাপতি জেপি নাড্ডা ও দলের সাংগঠনিক বিষয়ক সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ আরএসএসের এই বার্ষিক সভা তথা সর্বভারতীয় প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সঙ্ঘের অনুমোদিত ৩১টি সংগঠনের প্রধানরাও সভায় যোগ দেন। অরুণ কুমার জানান, দলের সভাপতি নির্বাচনে বিজেপির নিজস্ব গঠন কাঠামো রয়েছে। দলের সংবিধান মোতাবেক সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছে।
তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল অভিযোগ তুলছে। শনিবারই চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের ডাকে বিরোধী দলগুলি এক মহাবৈঠকে যোগ দিয়েছিল। জবাবে কুমার বলেন, এদের অনুমানের কোনও ভিত্তি নেই। কোনও ভিত্তি ছাড়াই রাজনৈতিক এজেন্ডার জন্য এ নিয়ে প্রচার চলছে। লোকসভার আসন ২০০২ সালের আইন দিয়েই বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সঙ্ঘের গৃহীত প্রস্তাবে বাংলাদেশ নিয়ে বেশ কিছু নিন্দাসূচক বিষয় উঠেছে। যেমন- সেখানে হিন্দুদের উপর কট্টরপন্থী ইসলামিরা সরকারি মদতে হিংসা-নির্যাতন চালাচ্ছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি যে শাসক-জমানার বদল হয়েছে তারপর থেকেই হিন্দু মঠ, মন্দির, দুর্গাপূজা মণ্ডপ এবং স্কুলে ভাঙচুর হয়েছে। হিন্দু বিগ্রহ ভাঙা হয়েছে ও নৃশংসভাবে খুনজখম চলছে। অপহরণ, লুটপাট এবং নারী নিগ্রহের সঙ্গে জোর করে ধর্মান্তর করা হচ্ছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নির্যাতনের ফলে বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা কমছে। ১৯৫১ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে যেখানে হিন্দু ছিল ২২ শতাংশ। সেখানে বর্তমানে হিন্দুর সংখ্যা ৭.৯৫ শতাংশ। এতেই প্রমাণ হয় যে, সেদেশে হিন্দুরা অস্তিত্ব সংকটে রয়েছেন।